তিন FIR-এ অভিষেককে গ্রেফতার নয়, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রক্ষাকবচ হাইকোর্টের
অভিষেকের বিরুদ্ধে তিন FIR-এ বড় স্বস্তি, ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত গ্রেফতার-সহ coercive action-এ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিনটি ফৌজদারি মামলায় আপাতত কোনও ‘coercive action’ বা জোরপূর্বক পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। ২৫ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত—যেটি আগে হবে—এই তিন মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতার-সহ কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না।
তবে এই নির্দেশের অর্থ মামলা খারিজ হয়ে যাওয়া নয়। তিনটি FIR-এর তদন্ত পুলিশ চালিয়ে যেতে পারবে। একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ বা হাজিরার জন্য ডাকলে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে। তিনি তদন্তে সহযোগিতা না করলে রাজ্য আদালতের কাছে গিয়ে এই সুরক্ষা সংশোধন বা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবে বলেও নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলায় আদালতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হল, অভিষেকের custodial interrogation বা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। সেই কারণেই আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে coercive action বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পুলিশ তদন্ত করতে পারবে, তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও চালাতে পারবে, কিন্তু এই তিন মামলায় তাঁকে গ্রেফতার বা হেফাজতে নেওয়ার মতো পদক্ষেপ আপাতত করা যাবে না।
আদালতের এই নির্দেশ তিনটি নির্দিষ্ট FIR-এর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। মামলাগুলি দায়ের হয়েছে ভবানীপুর, কালিতলা আশুতি এবং বিষ্ণুপুর থানায়। অভিষেকের পক্ষ থেকে একাধিক FIR নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা হলেও, যে তিনটি মামলার বিস্তারিত তথ্য তাঁর আবেদনে নির্দিষ্টভাবে দেওয়া হয়েছিল, মঙ্গলবারের নির্দেশ সেই তিনটিকেই কেন্দ্র করে। আদালত অবশ্য জানিয়েছে, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্পর্কিত একাধিক FIR থাকলে প্রতিটির জন্য আলাদা করে পৃথক মামলা দায়ের করা বাধ্যতামূলক নয়; তা হলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে মামলার সংখ্যা বাড়তে পারে।
বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রেও আদালত বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। সাধারণভাবে হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া বিদেশযাত্রার বিষয়ে শর্ত থাকলেও, চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট যে অনুমতি ১০ আগস্ট দিয়েছিল, কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ তা খর্ব করছে না। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদিত বিদেশযাত্রা এই নির্দেশের কারণে বাধাগ্রস্ত হবে না।
মামলাগুলির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। অভিষেকের পক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক FIR রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যের পক্ষ থেকে মামলাগুলিতে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে এবং অভিষেকের প্রভাবশালী অবস্থানের বিষয়টিও আদালতে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী নির্দেশে আদালত আপাতত হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেনি।
আগামী ২৩ নভেম্বর মামলাটি ফের শুনানিতে উঠবে। তার আগে তিনটি মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পুলিশকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ফলে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পাওয়া আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি তদন্তের গতিপ্রকৃতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
অর্থাৎ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আপাতত বড় আইনি স্বস্তি এলেও এটি কোনও চূড়ান্ত রায় নয়। তিনটি FIR বহাল রয়েছে, তদন্তও চলবে। শুধু ওই মামলাগুলিতে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গ্রেফতার-সহ coercive action থেকে তাঁকে সুরক্ষা দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।


