পুরীর বিখ্যাত রথযাত্রাকে ঘিরে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে। আগামী ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে জগন্নাথ মন্দির-এর ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা। তার আগে তিনটি রথের নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। আগামী ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই রথ নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। এরপর রথগুলি মন্দিরের সিংহদ্বারের সামনে স্থাপন করা হবে।
রথযাত্রার আগের দিন পালিত হবে নেত্রোৎসব (Netrotsava)। এই আচার শেষে শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহ শ্রীমন্দির থেকে বের করে রথে প্রতিষ্ঠা করা হবে। রথযাত্রার প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হয় বসন্ত পঞ্চমী-র দিনে, যখন ঐতিহ্য মেনে রথ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
রথ নির্মাণ শুধুমাত্র কাঠের কাজ নয়, এটি একটি ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী আচার। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাঠ সংগ্রহ, পরিবহণ, সংরক্ষণ এবং প্রতিটি অংশ তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি ধাপেই বহু প্রাচীন রীতি অনুসরণ করা হয়।
এই কাজে যুক্ত থাকেন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কারিগররা। তাঁদের প্রত্যেকের দায়িত্ব নির্দিষ্ট এবং ঐতিহ্যগত উপাধিও রয়েছে। মহারানারা কাঠ সংগ্রহ, পরিবহণ ও কর্মশালায় সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর গুণকররা রথের নকশা অনুযায়ী কাঠের মাপ নির্ধারণ করেন। সেই অনুযায়ী কাঠ কেটে ধাপে ধাপে তৈরি হয় বিশালাকার তিনটি রথ।
শতাব্দীপ্রাচীন এই রীতি আজও একই নিষ্ঠা ও ঐতিহ্য বজায় রেখে পালন করা হয়, যা প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও পর্যটকের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

