নিজস্ব প্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: রথযাত্রা মানেই শুধু শ্রীজগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মহাযাত্রা নয়। এই উৎসবের অন্তরালে লুকিয়ে রয়েছে এক অনন্য দাম্পত্য লীলা, যেখানে অভিমান, ভালোবাসা এবং মানভঞ্জনের প্রতীক হয়ে ওঠে একটি রসগোল্লা।
রথযাত্রার দিন শ্রীজগন্নাথদেব ভাই বলরাম ও বোন সুভদ্রাকে নিয়ে গুন্ডিচা মন্দিরে (মাসির বাড়ি) যান। সেখানে টানা নয় দিন অবস্থান করেন। কিন্তু এই যাত্রায় সঙ্গে থাকেন না শ্রীমন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মহালক্ষ্মী। স্বামীর এই অনুপস্থিতিতে অভিমানী হয়ে ওঠেন দেবী।
রথযাত্রার পঞ্চম দিনে, অর্থাৎ হেরা পঞ্চমী তিথিতে, দেবী লক্ষ্মী গুন্ডিচা মন্দিরে গিয়ে জগন্নাথদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, সেখানে স্বামীর আনন্দ দেখে তাঁর অভিমান আরও বেড়ে যায়। এরপর নীলাদ্রি বিজয়ের দিন জগন্নাথদেব মূল মন্দিরে ফিরলেও দেবী লক্ষ্মী সিংহদ্বারের কপাট বন্ধ করে দেন। ফলে জগন্নাথদেবকে তিন দিন মন্দিরের বাইরে অপেক্ষা করতে হয়।
শাস্ত্র ও লোকঐতিহ্যে এই ঘটনাকে 'মানভঞ্জন লীলা' বলা হয়। অবশেষে স্ত্রীর অভিমান ভাঙাতে জগন্নাথদেব তাঁকে নৈবেদ্য হিসেবে রসগোল্লা নিবেদন করেন। মিষ্টির সেই নিবেদনে দেবীর রাগ প্রশমিত হয় এবং মন্দিরের দরজা খুলে যায়। এরপরই জগন্নাথদেব পুনরায় শ্রীমন্দিরে প্রবেশ করেন।
এই বিশ্বাসকে স্মরণ করেই প্রতি বছর রথযাত্রার সমাপ্তিতে পুরীতে 'রসগোল্লা দিবস' পালিত হয়। ভক্তদের কাছে এটি শুধুমাত্র একটি মিষ্টির উৎসব নয়, বরং দাম্পত্য ভালোবাসা, ক্ষমা ও পুনর্মিলনের এক চিরন্তন প্রতীক।

