উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত-এ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই গর্ভপাতের ওষুধ সেবনের জেরে প্রাণসংকটে পড়েন ৩১ বছর বয়সি এক মহিলা। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, গুরুতর সংক্রমণ এবং একাধিক শারীরিক জটিলতা নিয়ে তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। প্রায় দু'সপ্তাহের চিকিৎসার পর বর্তমানে তিনি বিপন্মুক্ত এবং জেনারেল বেডে রয়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩০ জুন গভীর রাতে তাঁকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। তখন তাঁর রক্তচাপ অত্যন্ত কম ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও বিপজ্জনকভাবে নেমে গিয়েছিল। দ্রুত তাঁকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা যায়, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই গর্ভপাতের ওষুধ সেবনের পরই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হলেও সংক্রমণ ও অন্যান্য জটিলতার কারণে ৩ জুলাই তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়।
রোগীর চিকিৎসার জন্য সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। স্ত্রীরোগ, মেডিসিন, অ্যানাস্থেসিয়া এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের চিকিৎসকেরা সমন্বিতভাবে চিকিৎসা চালান। এই চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অমৃতা রায়।
বারাসত মেডিকেল কলেজের এমএসভিপি ডাঃ অভিজিৎ সাহা জানান, রোগীকে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। দ্রুত অস্ত্রোপচার, নিবিড় পরিচর্যা এবং বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত চিকিৎসার ফলেই তাঁকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়েছে।
এই ঘটনার পর চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কখনও গর্ভপাতের ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। এতে অসম্পূর্ণ গর্ভপাত, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ, সেপসিস (Sepsis) এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। নিরাপদ চিকিৎসার জন্য অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

