পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর পর থেকেই রাজ্যের বহু উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তার টাকা পৌঁছতে শুরু করেছে। তবে একই সঙ্গে সামনে এসেছে আবেদন বাতিল, নথিতে অসঙ্গতি এবং অযোগ্য আবেদনকারীদের নাম তালিকায় থাকার অভিযোগও। এই পরিস্থিতিতে প্রকল্পের আবেদন যাচাই নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকৃত যোগ্যদের যাতে সরকারি সুবিধা পৌঁছয়, সেই লক্ষ্যেই আবেদনপত্র ও নথির যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা হয়েছে। ফলে যাঁরা আবেদন করার সময় ভুল তথ্য দিয়েছেন বা তথ্য গোপন করেছেন, তাঁদের আবেদন বাতিল হতে পারে।
অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন কেন ফের যাচাই করা হচ্ছে?
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, অনলাইনে ও অফলাইনে আবেদন গ্রহণের সময় একাধিক ক্ষেত্রে তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কোথাও একই ব্যক্তি একাধিকবার আবেদন করেছেন, আবার কোথাও আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এসেছে।
এই কারণেই আবেদনগুলির পুনরায় যাচাই শুরু হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, প্রকল্পের সুবিধা যেন শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছায়।
কী বললেন মন্ত্রী মালতি রাভা রায়?
রথযাত্রার দিন কোচবিহারে একটি খুঁটি পুজোর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী মালতি রাভা রায় আবেদনকারীদের উদ্দেশে আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, সরকারের কার্যকালের সময় এখনও খুব বেশি হয়নি। তাই পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে যাঁরা প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে পড়েন, তাঁরা অবশ্যই সরকারি সহায়তা পাবেন।
একই সঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, যাঁরা আবেদন করার সময় তথ্য গোপন করেছেন অথবা নির্ধারিত যোগ্যতার বাইরে থেকেও আবেদন করেছেন, তাঁদের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাচাইয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তাঁদের নাম প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে।
কারা বাদ পড়তে পারেন?
সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে—
আবেদনপত্রে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হলে।
একই ব্যক্তি একাধিকবার আবেদন করলে।
অনলাইনে তথ্য গোপন করার প্রমাণ মিললে।
নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ না করলে।
জমা দেওয়া নথির সঙ্গে আবেদনপত্রের তথ্য না মিললে।
তবে প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে চলছে তথ্য যাচাই
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেক এলাকায় সরকারি কর্মীরা আবেদনকারীদের বাড়িতে গিয়ে তথ্য মিলিয়ে দেখছেন। বিশেষ করে যাঁদের আবেদন আগে বাতিল হয়েছিল অথবা নথিতে অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে প্রকৃত উপভোক্তাদের শনাক্ত করা এবং ভুল আবেদন আলাদা করার চেষ্টা চলছে।
আগে কী জানিয়েছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল?
এর আগেও রাজ্যের পুর ও নারী-শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছিলেন, অন্নপূর্ণা যোজনায় অর্থ বিতরণের আগে এবং পরে তথ্য যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র যোগ্য আবেদনকারীদেরই দেওয়া হবে। নথিতে অসঙ্গতি বা তথ্যগত সমস্যা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আবেদন বাতিল হতে পারে।
যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের কী করা উচিত?
যাঁরা ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের উচিত—
আবেদনপত্রে দেওয়া সমস্ত তথ্য সঠিক রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা।
প্রয়োজনীয় নথি হালনাগাদ রাখা।
যাচাইয়ের সময় প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করা।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট দফতরের নির্দেশিকা নিয়মিত নজরে রাখা।
অন্নপূর্ণা যোজনার মূল উদ্দেশ্য হল প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। সেই কারণে সরকার আবেদন যাচাই প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করেছে। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করলে সুবিধা পাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে প্রতিটি আবেদন যাচাইয়ের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই আবেদনকারীদের সরকারি নির্দেশিকা মেনে সঠিক তথ্য প্রদান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

