তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। রাজ্যের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে বলে দাবি তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। আবেদনকারীর পক্ষের দাবি, ধারাবাহিকভাবে নতুন নতুন মামলা হওয়ায় গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই সমস্ত মামলার তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরার আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে প্রাথমিক শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট কোনও অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেয়নি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করে রাজ্যকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরগুলির বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
কী জানানো হয়েছে আদালতে?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী গোপাল শংকরনারায়ণ। আদালতে তিনি দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে প্রতিদিন নতুন নতুন এফআইআর দায়ের হচ্ছে, কিন্তু কতগুলি মামলা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য নেই।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের ডিজিপিকে সমস্ত এফআইআরের তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেলের দফতরের প্রতিনিধিরা আদালতকে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।
অন্তর্বর্তী স্বস্তি মিলল না
মামলার শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ বা অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রদান করেননি।
পরবর্তী শুনানির দিন ২২ জুলাই ধার্য হয়েছে। ওই দিন রাজ্যের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।
ডিজে হুমকি মামলায় কণ্ঠস্বরের নমুনা দিলেন অভিষেক
এদিন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলাতেও আদালতের নির্দেশ মেনে পদক্ষেপ করেন তৃণমূল সাংসদ।
ডিজে হুমকি সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বিধাননগর এসিজেএম আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনা দেন। আদালতের নির্দেশ অনুসারে সিআইডি আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল কণ্ঠস্বরের নমুনা?
এর আগে একাধিকবার কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে হাজির না হওয়ায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
১০ জুলাইয়ের শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তদন্তের স্বার্থে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেই হবে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হলে আগে দেওয়া আইনি সুরক্ষাও প্রত্যাহার করা হতে পারে।
এরপরই আদালতের নির্দেশ মেনে নির্ধারিত দিনে হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
আদালত চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে উপস্থিত থাকবেন, এমন সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে বিধাননগর আদালত চত্বরে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আদালত সংলগ্ন এলাকায় জমায়েতের উপরও নজরদারি চালানো হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
এখন নজর পরবর্তী শুনানিতে
এই মুহূর্তে মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলি এফআইআর রয়েছে এবং সেগুলির প্রকৃতি কী—তা আদালতে রাজ্যের রিপোর্টের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
পরবর্তী শুনানিতে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই আদালত কী পর্যবেক্ষণ করে বা কোনও অতিরিক্ত নির্দেশ দেয় কি না, সেদিকেই রাজনৈতিক ও আইনি মহলের নজর থাকবে।

