পাঠ্যবইয়ে দেশভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ইতিহাস চাই, পশ্চিমবঙ্গ দিবসে সরব মন্ত্রীরা

NEWS INDIA বাংলা
0
West Bengal Day history textbook debate partition Bengal formation


পশ্চিমবঙ্গ দিবসের প্রথম সরকারি উদযাপনকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিহাসের কিছু অধ্যায় নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন একাধিক মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতা। তাঁদের বক্তব্য, দেশভাগের সময় বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পটভূমি এবং সেই সময়কার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের আরও বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।


শনিবার পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে বিধানসভা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়েও পশ্চিমবঙ্গ দিবস ঘিরে বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানেই উঠে আসে ইতিহাস শিক্ষার বিষয়টি।



বিধানসভায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় মত প্রকাশ করেন যে, দেশভাগের আগে ও পরে বাংলার যে অশান্ত সময়কাল কেটেছে, তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় স্কুলের পাঠ্যক্রমে পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি।


তাঁর মতে, কলকাতা, ঢাকা ও নোয়াখালিসহ তৎকালীন বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত ঘটনাবলি এবং তার সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন। তিনি এই বিষয়গুলি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান।


একই ধরনের মত প্রকাশ করেন রাজ্যের আরেক মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষও। তাঁর বক্তব্য, ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা শিক্ষাক্ষেত্রে স্থান পাওয়া উচিত।


অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে সওয়াল করেন।


তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ কীভাবে তৈরি হয়েছিল, দেশভাগের সময় কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং সেই সময়ে বিভিন্ন নেতার ভূমিকা কী ছিল—এই বিষয়গুলি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষভাবে তিনি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।


সুকান্ত মজুমদারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের জন্ম ও গঠনের ইতিহাস নিয়ে পাঠ্যপুস্তকে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিজেদের রাজ্যের অতীত সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবে।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইতিহাসকে পাঠ্যক্রমে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, তা বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। একদিকে যেমন অনেকের মত, ইতিহাসের বিস্মৃত অধ্যায়গুলি নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন, অন্যদিকে ইতিহাসবিদদের একটি অংশ মনে করেন, পাঠ্যক্রমে কোনও নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে গবেষণালব্ধ তথ্য, বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিক্ষাবিদদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।


শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিহাসের লক্ষ্য শুধু অতীতের ঘটনা তুলে ধরা নয়, বরং সেই ঘটনাগুলির সামাজিক, রাজনৈতিক এবং মানবিক প্রেক্ষাপটও শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা। তাই পাঠ্যক্রমে কোনও পরিবর্তন আনার আগে বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।



এবারের পশ্চিমবঙ্গ দিবস শুধু একটি সরকারি উদযাপনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রাজ্যের ইতিহাস, দেশভাগ, পশ্চিমবঙ্গের জন্ম এবং শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে।

ভিডিওটি দেখুন...


পাঠ্যবইয়ে নতুন অধ্যায় যুক্ত হবে কি না, তা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। তবে ইতিহাসের কোন অংশ আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছাবে এবং কীভাবে পৌঁছাবে, সেই প্রশ্ন এখন রাজ্যের জনপরিসরে অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।


ইতিহাসকে জানার আগ্রহ, অতীতকে নতুন করে মূল্যায়নের চেষ্টা এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করার দাবি—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চ থেকে উঠে আসা এই বিতর্ক আগামী দিনেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!