বিধানসভায় পেশ হলো রাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে ঐতিহাসিক বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বাজেট পেশের আগে বিধানসভার মন্দিরে পুজো সেরে অর্থমন্ত্রীকে দই-চিনি খাইয়ে শুভ সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এই বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই মিলল স্বস্তির খবর। জানা গিয়েছে, রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.০২ শতাংশে। তবে একই সাথে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মাথায় রয়েছে ৮ লক্ষ ৫৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা। যদিও বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা এবং মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। তাই কাঁথিতে নতুন পুলিশ জেলা এবং গোপীবল্লভপুরে নতুন মহকুমা তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাজ্যে বর্তমানে চালু থাকা সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু থাকবে বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
চাকরিপ্রার্থী ও সরকারি কর্মীদের জন্য এই বাজেটে রয়েছে একগুচ্ছ বড় চমক! রাজ্যে বিভিন্ন দফতরে মোট ১ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের মেগা ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে মহিলাদের জন্য এবং ১০ শতাংশ পদ অগ্নিবীরদের জন্য । এছাড়া থাকছে ২০ হাজার পুলিশ, ৫০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, ১ হাজার ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেল কর্মী-সহ বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগ। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বা DA বাড়িয়ে মোট ৩৮ শতাংশ DA ঘোষণা করা হয়েছে, যা আগামী ১লা অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। অন্যদিকে, বাজেটে বড় উপহার পেলেন চুক্তিভিত্তিক কর্মীরাও। কারণ নয়া এই বাজেটে আশা কর্মীদের ভাতা বাড়তে চলেছে ৫ হাজার টাকা, সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ ও গ্রিন পুলিশ এবং হোমগার্ডদের ভাতা বাড়তে চলেছে ২ হাজার টাকা, মিড-ডে মিলের রাঁধুনিদের ভাতা বাড়তে চলেছে ১ হাজার টাকা। পাশাপাশি বয়স্ক ও বিধবা পেনশন বাড়তে চলেছে ৫০০ টাকা। সেই সঙ্গে বেকার যুবকদের জন্য চালু হচ্ছে 'ভরসা' কর্মসূচি, যেখানে যোগ্য গ্র্যাজুয়েট বেকাররা পাবেন মাসে ৩০০০ টাকা এবং অন্যান্যরাপ্রতি মাসে ২০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন।
শিক্ষাক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। ঝাড়গ্রামে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে। উত্তরবঙ্গে একটি IIT, একটি IIM, ৪টি নতুন মেডিকেল কলেজ, একটি AIIMS ও একটি ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। না, বাজেটে বাদ পড়েনি মহিলারা! বরং, তাদের জন্য 'অন্নপূর্ণা যোজনায়' ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চালু হচ্ছে বিনামূল্যে বাস পরিষেবার জন্য 'পিঙ্ক কার্ড'। এছাড়াও গর্ভবতী মায়েদের ২১ হাজার টাকা ও উচ্চশিক্ষায় অবিবাহিত ছাত্রীদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। শিল্পের স্বার্থে দুর্গাপুরে সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে টেক্সটাইল হাব গড়ার কথা বলা হয়েছে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে AI-এর বিস্তার ঘটাতে পশ্চিমবঙ্গ AI মিশন চালু করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। এছাড়া শক্তিপীঠ সার্কিট গড়ে তোলারও বার্তা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে নতুন সরকারের এই প্রথম বাজেট একদিকে যেমন কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের দিশা দেখাচ্ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষাকেও নিশ্চিত করতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।

