রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক সংগঠন। রবিবার নিউটাউনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আগামী দিনে বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা এবং তৃণমূল স্তরে সাংগঠনিক বিস্তার ঘটানোর লক্ষ্যেই এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে সামনে রেখেই নতুন সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দলের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে তুলতে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে কারা?
দলের তরফে ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, নবগঠিত জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে একাধিক পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠককে রাখা হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অরূপ রায়কে।
এছাড়াও সদস্য হিসেবে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, সাবিনা ইয়াসমিন, সন্দীপন সাহা, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজল শেখ, জাভেদ আহমেদ খান, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, অপূর্ব সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ২৫ জন সদস্য।
একইসঙ্গে চারজন সহ-সভাপতির নামও ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁরা হলেন অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, রথীন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন।
দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী দিনে জেলা থেকে বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই নেতৃত্ব কাজ করবে। পাশাপাশি জনসংযোগ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সাংগঠনিক সম্প্রসারণেও এই কমিটির বিশেষ ভূমিকা থাকবে।
রাজনৈতিক মহলে শুরু জোর আলোচনা
তবে নতুন কমিটি ঘোষণার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে কমিটির তালিকায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা বহিষ্কৃত নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না থাকায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই নতুন সাংগঠনিক কাঠামো আসলে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। যদিও সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
কুণাল ঘোষের কটাক্ষ
নতুন কমিটি ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল শিবিরের অন্যতম মুখ কুণাল ঘোষ তীব্র কটাক্ষ করেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, এই উদ্যোগের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মানুষের মধ্যেই শেষ কথা নির্ধারিত হবে।
তাঁর দাবি, রাজ্যের মানুষ অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন এবং ভবিষ্যতেও ভোটবাক্সেই তার জবাব দেবেন। কুণাল ঘোষের বক্তব্য, জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনও রাজনৈতিক সংগঠন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
সামনে কোন পথে নতুন সংগঠন?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত এই নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম আগামী দিনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এখন দেখার, সংগঠনটি আগামী দিনে কত দ্রুত নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে এবং জনসমর্থন আদায়ে কতটা সফল হয়। রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে নতুন এই সমীকরণ আগামী কয়েক মাসে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

