জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে খুনের হুমকি! পোস্টার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য পুরুলিয়ায়
পুরুলিয়ায় বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একটি হুমকিমূলক পোস্টারকে কেন্দ্র করে জঙ্গলমহল জুড়ে চাঞ্চল্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পোস্টারে সাংসদকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাঁকে হত্যা করতে পারলে এক লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথাও লেখা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
জেলা বিজেপি সূত্রে খবর, পুরুলিয়ার কোটশিলা থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় সম্প্রতি এই পোস্টার দেখা যায়। পোস্টারে পুরুলিয়ার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে। রাজ্যে চলমান অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদ অভিযান এবং বুলডোজার ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে পোস্টারে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
ঘটনার পরই সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। তিনি পুরুলিয়ার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে তিনি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং এই ঘটনার পিছনে সংগঠিত কোনও চক্র বা চরমপন্থী গোষ্ঠীর যোগ থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, এটি গণতান্ত্রিক পরিবেশের উপরও সরাসরি আঘাত।
তবে পোস্টার ঘিরে একাধিক প্রশ্নও উঠে আসছে। প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, একসময় মাওবাদী কার্যকলাপের জন্য পরিচিত হলেও বর্তমানে পুরুলিয়া জেলায় সেরকম সক্রিয় মাওবাদী উপস্থিতির কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। ফলে পোস্টারের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণত সিপিআই (মাওবাদী)-র নামে প্রচারিত পোস্টার সাদা কাগজে লাল কালিতে লেখা হয় এবং সেখানে সংগঠনের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। কিন্তু এই পোস্টারটি সাদা কাগজে নীল কালিতে লেখা হয়েছে এবং কোথাও কোনও সংগঠনের নাম বা পরিচয় নেই। এই কারণেই তদন্তকারীরা বিষয়টিকে আরও সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পোস্টারটি মানভুঁইয়া ভাষায় লেখা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বুলডোজার অভিযানের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হচ্ছে এবং সেই ক্ষোভ থেকেই সাংসদের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হুমকির সুরে আরও কিছু সতর্কতামূলক মন্তব্যও পোস্টারে রয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ পোস্টারগুলি সংগ্রহ করে ফরেনসিক ও গোয়েন্দা তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে, এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক বা সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, নাকি শুধুমাত্র আতঙ্ক সৃষ্টি করাই উদ্দেশ্য ছিল, সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই ধরনের হুমকিমূলক পোস্টার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন সাংসদকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে পুরস্কার ঘোষণা করে হুমকি দেওয়ার ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশে কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই ঘটনার দ্রুত তদন্ত, দোষীদের শনাক্তকরণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এখন সকলের নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং পোস্টারের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা জানার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।

