টলিপাড়ায় সংঘাতের আবহ! ম্যানেজার গিল্ডের বিস্ফোরক অভিযোগে নতুন বিতর্ক
টলিপাড়ার অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অস্থিরতা এবার প্রকাশ্যে চলে এল। সংগঠনগত বিরোধ, নেতৃত্বকে ঘিরে মতপার্থক্য এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চাপা উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সম্প্রতি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে টলিউডের বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ঘটনাকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
গত ২৮ মে কলকাতার NT1 Studio-তে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পর বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। ওইদিন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় ম্যানেজার সনত চট্টোপাধ্যায়কে। ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অভিযোগের আঙুল ওঠে বিজেপি-সমর্থক হিসেবে পরিচিত সঞ্জয় গুহর দিকে। যদিও এই অভিযোগ সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
এই ঘটনার পর আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে Cine Production Managers Association বা ম্যানেজার গিল্ড। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত এক বছর ধরে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে নানা ধরনের চাপ ও বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শ্রম দফতরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মামলা করেছিলেন। তবে সেই মামলায় সংগঠন জয়ী হয়েছে বলেই দাবি করেছে গিল্ড। তাদের বক্তব্য, এই সংক্রান্ত সরকারি নথিও তাদের কাছে রয়েছে।
গিল্ডের অভিযোগ, আইনি লড়াইয়ে পরাজয়ের পর সংগঠনের সম্পাদক মহঃ হাসান এবং সহ-সম্পাদক নিরুপম দে-কে লক্ষ্য করে একাধিক খোলা চিঠি প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং সম্মানহানিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই পুলিশ আদালত এবং দেওয়ানি আদালতে মোট ৩২ লক্ষ টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আগামী মাসে সেই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ম্যানেজার গিল্ডের দাবি, চলতি বছরের ৪ মে-র পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের পর সংগঠনের নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে কটাক্ষ, অপমানজনক মন্তব্য এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করেও কটূক্তি করা হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘জঙ্গি’, ‘হার্মাদ’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে সংগঠনের নেতাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা হয়েছে।
এই অভিযোগে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সঞ্জয় গুহ, তাপস খাঁ, পূর্ণেন্দু শেখর মল্লিক, বাপি সান্যাল, সঞ্জীব বণিক এবং সুব্রত বিশ্বাস। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি উঠেছে স্টুডিয়োর অভ্যন্তরে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে। গিল্ডের দাবি, বহিরাগতদের নিয়ে স্টুডিয়ো চত্বরে প্রবেশ করে এক সহকর্মীর উপর শারীরিক হামলা চালানো হয়। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। তবে ঘটনাটি সামনে আসতেই টলিউড মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্ত অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, মিথ্যা প্রচার এবং মানহানিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে আরও আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে। সূত্রের খবর, আলিপুর আদালত-এ নতুন মামলার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এখন গোটা বিষয়টির দিকে নজর রয়েছে তদন্তকারী সংস্থা এবং আদালতের উপর। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের আবহে টলিপাড়ার এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা জানতে অপেক্ষায় রয়েছেন বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ। তবে এই বিতর্ক যে টলিউডের অন্দরমহলের দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।

