চৈত্র সংক্রান্তিতে চন্দনেশ্বর শিব মন্দিরে ভক্তদের ঢল, ৫০০ বছরের প্রাচীন তীর্থে উপচে পড়া ভিড়
চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে ভক্তি, আস্থা ও ধর্মীয় উন্মাদনায় মুখর হয়ে উঠল চন্দনেশ্বর শিব মন্দির। দিঘার অদূরে অবস্থিত প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন এই শিবধামে শুক্রবার সকাল থেকেই ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী এসে মহাদেবের পুজো ও দর্শন করেন।
দিঘা থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে ওড়িশার বালেশ্বর জেলা-য় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মন্দির দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ব ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় শিবতীর্থ হিসেবে পরিচিত। বাংলা-ওড়িশা সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় প্রতিবছর চৈত্র মাসের শেষ দিনে এখানে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে মন্দির চত্বরে বসেছে ঐতিহ্যবাহী চড়ক মেলা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মেলাকে ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে গোটা এলাকাজুড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, একসময় এই অঞ্চল ছিল গভীর অরণ্যে ঘেরা। চন্দন নামে এক ব্রাহ্মণ এখানে কঠোর সাধনার মাধ্যমে মহাদেবের আরাধনা করতেন। তাঁর নামানুসারেই এই শিবলিঙ্গের নামকরণ হয় ‘চন্দনেশ্বর’। ভক্তদের বিশ্বাস, এই শিবলিঙ্গ স্বয়ম্ভূ এবং পাতাল থেকে আবির্ভূত হয়েছে।
মন্দিরকে ঘিরে আরও একটি জনপ্রিয় কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। কথিত আছে, লক্ষ্মী নামে এক মহিলা গোরু চরাতে এসে দেখেন তাঁর একটি গোরু প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট স্থানে থাকা শিবলিঙ্গের উপর নিজে থেকেই দুধ বর্ষণ করছে। এরপর স্থানীয় মানুষ ওই অলৌকিক ঘটনার কথা জানতে পারেন এবং ধীরে ধীরে সেখানে গড়ে ওঠে বর্তমানের চন্দনেশ্বর মন্দির।
প্রতিবছর চৈত্র মেলায় নিঃসন্তান দম্পতি, রোগমুক্তি কামনাকারী ভক্ত এবং বিভিন্ন মনস্কামনা পূরণের আশায় অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন। অনেক ভক্ত কাঁধে জল নিয়ে বা খালি পায়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে মহাদেবের দর্শনে পৌঁছান। তাঁদের বিশ্বাস, চন্দনেশ্বরের আশীর্বাদে জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং মনোবাসনা পূর্ণ হয়।
চৈত্র সংক্রান্তির পুণ্যলগ্নে তাই এবারও ভক্তদের ঢলে মুখর হয়ে উঠেছে চন্দনেশ্বর ধাম। ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন হিসেবে আজও এই তীর্থক্ষেত্র সমানভাবে আকর্ষণ করে লক্ষ লক্ষ ভক্তকে।

