দিল্লির একটি হোটেলে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বড়সড় দুর্ঘটনার সাক্ষী হল দেশ। এবার বিহারের মুজফ্ফরপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভয়াবহ আগুন লেগে মৃত্যু হল অন্তত চারজনের। ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় চারটে নাগাদ মুজফ্ফরপুরের ওই বেসরকারি হাসপাতালের ছয়তলায় অবস্থিত আইসিইউ বিভাগে আচমকাই আগুন লাগে। ভোরবেলার শান্ত পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কে ভরে ওঠে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রোগী, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং কর্মীদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে আইসিইউ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো তলায়। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় হাসপাতালের একাংশ। জীবন বাঁচাতে রোগীদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন হাসপাতালের কর্মীরা। অনেকেই আতঙ্কে হাসপাতালের করিডর ও সিঁড়ির দিকে ছুটতে শুরু করেন।
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ এবং দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। শুরু হয় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান। দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি আইসিইউতে আটকে পড়া রোগীদের বের করে আনার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। উদ্ধার করা হয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন রোগীকে। তাঁদের দ্রুত নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
মুজফ্ফরপুর দমকল বিভাগের আধিকারিক রাম নিবাস পান্ডে জানিয়েছেন, আইসিইউ থেকে উদ্ধার হওয়া রোগীদের মধ্যে দু’জনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত চার। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা এখনও সংকটজনক হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, অধিকাংশ আহতই ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কয়েকজন অগ্নিদগ্ধও হয়েছেন। তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু জানানো হয়নি। পুলিশ, দমকল এবং প্রশাসনের যৌথ তদন্ত শুরু হয়েছে। হাসপাতালের অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরপর দুটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশের হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক ভবনগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নইলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকে যায়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছে প্রশাসন। এখন সকলের নজর তদন্তের অগ্রগতি এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দিকে।

