বসন্ত এলেও বাংলায় বাড়ছে গরমের দাপট, বলছে আবহাওয়া দপ্তর

NEWS INDIA বাংলা
0

ফেব্রুয়ারিতেই গ্রীষ্মের ইঙ্গিত, শীত কার্যত বিদায় বাংলায়

 নিজস্ব  প্রতিবেদন,  নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক:ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি, অথচ বাংলার আবহাওয়ায় বসন্তের কোমলতা নয়—বরং স্পষ্ট গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) থেকেই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে শীত কার্যত বিদায় নিয়েছে। ভোরে হালকা কুয়াশা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চড়া রোদ ও বাড়তে থাকা তাপমাত্রা জনজীবনে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।

Kolkata heat rise February weather (বাংলার আগাম গরম)


আজ কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৬.৮°C, যা এই সময়ের তুলনায় বেশ বেশি। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ২৯–৩০°C-এর মধ্যে। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তর দিকের শীতল হাওয়া কার্যত থেমে গেছে। তার জায়গায় বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পযুক্ত বাতাস দক্ষিণবঙ্গে ঢুকছে, যা পারদ বৃদ্ধির মূল কারণ।

বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আকাশ পরিষ্কার থাকছে এবং বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) ওঠানামা করছে ৩০–৪৫ শতাংশের মধ্যে। দিনের বেলায় রোদের তেজ এতটাই বেশি যে, মানুষ ইতিমধ্যেই ছাতা, টুপি ও সানগ্লাস ব্যবহার শুরু করেছেন।

বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলা—বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বীরভূমে শুষ্ক গরমের অনুভূতি আরও বেশি। সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৩১°C ছুঁইছুঁই, যা সাধারণত মার্চের মাঝামাঝি সময়ের আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। দার্জিলিং, কালিম্পং ও কার্শিয়াংয়ে এখনও ভোরে হালকা ঠান্ডা থাকলেও সমতল অঞ্চল—শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে কুয়াশা অনেকটাই কমেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। শুষ্ক ও রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়াই বজায় থাকবে বলে পূর্বাভাস।

আবহাওয়াবিদদের মতে, নতুন কোনো পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) না এলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই ধারা থামার সম্ভাবনা কম।

এই হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরাও। ভোরের হালকা ঠান্ডা ও দুপুরের তীব্র গরমের মধ্যে ভারসাম্যহীনতায় সর্দি, কাশি ও ভাইরাল জ্বর বাড়ছে। শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে—

শরীর আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় নিচ্ছে

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে

পর্যাপ্ত জলপান জরুরি

দুপুর ১২টা–৩টার মধ্যে রোদ এড়িয়ে চলা উচিত

কারণ, এই সময়ে UV Index তুলনামূলকভাবে বেশি থাকবে।

হাওয়া অফিসের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস বলছে, সপ্তাহের শেষে কলকাতার তাপমাত্রা ৩২–৩৩°C ছুঁতে পারে। অর্থাৎ শীতের পোশাক কার্যত তুলে রাখার সময় এসে গেছে।

তবে এই আগাম গরম নিয়ে চিন্তায় কৃষিবিদরাও। রবি শস্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেচ ব্যবস্থার দিকে নজর দিতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে বসন্তের মৃদু আবহাওয়া হারিয়ে গিয়ে আগাম গরমের দাপটে নতুন প্রশ্ন উঠছে— এ বছর কি তবে গরমের রেকর্ড ভাঙবে?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!