ডুয়ার্সে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমির ৯৯ বছরের লিজের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি ডিএমআই-এর

NEWS INDIA বাংলা
0

 ডুয়ার্সে মন্দির-মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমির আইনি স্বীকৃতির দাবি



নিজস্ব প্রতিবেদন ,নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: ডুয়ার্স ও তরাই অঞ্চলের মন্দির, মসজিদ, গির্জা ও গুম্ফার মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জমির আইনি মালিকানা বা দীর্ঘমেয়াদি লিজ নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হয়েছে ডুয়ার্স মিল্লাতে ইসলামিয়া সোসাইটি (ডিএমআই)। এই বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইমেল পাঠিয়েছেন।

ডিএমআই সূত্রে জানা গেছে, শুধু মুখ্যমন্ত্রীই নন—রাজ্য সংখ্যালঘু তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মোশারফ হোসেন, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা আব্দুল সাত্তার এবং জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের জেলা শাসকদের কাছেও সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরকারি বা চা-বাগানের জমিতে অবস্থিত হলেও জমির স্থায়ী লিজ বা পাট্টা না থাকায় উন্নয়নমূলক কাজে বারবার বাধা আসছে। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ‘এনওসি’ (NOC) না মেলায় মন্দির, মসজিদ কিংবা কবরস্থানের সংস্কারের কাজও থমকে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ডিএমআই-এর পক্ষ থেকে প্রতিটি ধর্মীয় কমিটিকে তাদের দখলে থাকা জমির তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট জেলার এডিএম (এলআর)-এর কাছে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মিজানুর রহমানের দাবি,

“ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ৯৯ বছরের দীর্ঘমেয়াদি লিজ বা পাট্টা প্রদান করা হোক। এতে আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর হবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের দীর্ঘদিনের এই দাবির সমাধান প্রয়োজন।”

অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই দাবি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের মতে, ভোটমুখী রাজ্যে মানুষের মনোযোগ ঘোরাতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন মিজানুর রহমান। তাঁর বক্তব্য,

“এই দাবি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। আমরা কোনও রাজনৈতিক ছাতার তলায় নয়, সামাজিক সংগঠন হিসেবে সকল সম্প্রদায়ের স্বার্থে এই আবেদন করেছি।”

তিনি আরও জানান,

এই চিন্তাটি হঠাৎই সামনে আসে এবং পরে একটি বৈঠকের মাধ্যমে সংগঠনের সদস্যদের সম্মতিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানানো হয়।

ডিএমআই-এর পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, রাজ্য সরকার দ্রুত এই বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।

এখন দেখার বিষয়—ভোটের মুখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাবের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!