বাংলায় বর্ষার দাপট অব্যাহত, শনিবারও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা! উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গেও ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা
সপ্তাহান্তেও স্বস্তি নেই, বাংলার কোন কোন জেলায় বৃষ্টি? IMD-এর নতুন পূর্বাভাসে বাড়ল সতর্কতা
বর্ষার দাপট এখনই কাটছে না বাংলায়। ৫ সেপ্টেম্বর শনিবারও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গেও বজ্রপাত, দমকা হাওয়া এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। IMD-এর ৫ সেপ্টেম্বরের সতর্কতা অনুযায়ী, Sub-Himalayan West Bengal ও Sikkim-এ আজ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ৬ সেপ্টেম্বরও এই সতর্কতা বজায় থাকছে।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি নজরকাড়া। পাহাড় ও ডুয়ার্স সংলগ্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির জেরে স্থানীয়ভাবে জলস্তর বাড়া, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা ভূমিধসের মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। আগের কয়েক দিন ধরেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির প্রভাব রয়েছে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের মতো জেলাগুলিতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
IMD-এর সর্বশেষ সতর্কতায় শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, Gangetic West Bengal-এর জন্যও বজ্রবিদ্যুৎ, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ৫ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে Thunderstorm & Lightning-এর সতর্কতা রয়েছে। ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর আবার ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ, আগামী কয়েক দিনেও আবহাওয়ার পুরোপুরি উন্নতির সম্ভাবনা নেই।
কলকাতাতেও আজ আকাশ মূলত মেঘলা থাকতে পারে। শহর ও আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ দেখা যেতে পারে। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির ফলে কলকাতার বেশ কিছু নিচু এলাকায় জল জমার সমস্যা তৈরি হয়েছিল। ফলে ফের বৃষ্টি হলে শহরের যান চলাচল, অফিসযাত্রা এবং সাধারণ জনজীবনে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কলকাতায় গত কয়েক দিনেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং একাধিক নিচু এলাকা জলমগ্ন হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকায় সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খোলা মাঠ, জলাশয় কিংবা গাছের নিচে অবস্থান না করাই নিরাপদ। ঝড়ের সময় বিদ্যুতের খুঁটি, দুর্বল কাঠামো এবং ঝুঁকিপূর্ণ গাছ থেকেও দূরে থাকার প্রয়োজন রয়েছে। IMD-এর সতর্কতা অনুযায়ী বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার কারণে গাছের ডাল ভাঙা কিংবা অস্থায়ী কাঠামোর ক্ষতির মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
পাহাড়ি এলাকাগুলিতে অবশ্য ঝুঁকি আরও বেশি। দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বৃষ্টি হলে পাহাড়ি রাস্তা পিচ্ছিল হওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও ধস নামতে পারে। ছোট নদী, পাহাড়ি ঝোরা এবং অন্যান্য জলধারার জলস্তরও দ্রুত বাড়তে পারে। তাই আবহাওয়া খারাপ থাকলে অপ্রয়োজনে দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ থাকছে।
সব মিলিয়ে, সেপ্টেম্বরের শুরুতেও বাংলায় সক্রিয় রয়েছে বর্ষার প্রভাব। উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি এবং দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সপ্তাহান্তে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে বাইরে বেরোনোর আগে স্থানীয় আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়া এবং বজ্রঝড়ের সময় নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শই দিচ্ছে পরিস্থিতি।


