বৃষ্টির দাপট কাটেনি বাংলায়! কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা, পাহাড়ে বাড়ছে ভূমিধসের আশঙ্কা
আজও মেঘ-বৃষ্টির দাপট, কলকাতায় ঝোড়ো হাওয়া-বজ্রপাতের সতর্কতা; উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে নজর
বৃষ্টির দাপট পুরোপুরি কাটেনি বাংলায়। বৃহস্পতিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, আজ কলকাতার জন্য মূল সতর্কতা ভারী বৃষ্টির চেয়ে বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়াকে ঘিরে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গ এবং পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর ৩ সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বৃহস্পতিবার বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে। কলকাতাতেও বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঘণ্টায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে। ফলে রাস্তায় বেরোনোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কলকাতায় গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। আলিপুর আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কলকাতা-আলিপুরে ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। ফলে শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকা ও রাস্তায় জল জমার সমস্যা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
বৃহস্পতিবার কলকাতার আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুরের পূর্বাভাসে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আগামী কয়েকদিনেও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় থাকবে, যদিও ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর কলকাতার জন্য আলাদা কোনও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই।
দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবারের প্রধান সতর্কতা বজ্রপাত, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়াকে ঘিরে। তাই খোলা জায়গায় কাজ করা, গাছের নিচে দাঁড়ানো কিংবা জলাশয়ের কাছাকাছি থাকার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
তবে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্বেগের। IMD-এর সতর্কতায় উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে বৃষ্টির পাশাপাশি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। দার্জিলিংয়ের জন্য ৩ সেপ্টেম্বর ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে।
পাহাড়ে টানা বা ভারী বৃষ্টি হলে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের মতো এলাকায় পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় প্রশাসনের সতর্কবার্তা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার উপর পাথর বা মাটি নেমে আসা, দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া এবং যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্নের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এই বৃষ্টির পিছনে আবহাওয়ার সক্রিয় পরিস্থিতিও রয়েছে। IMD জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চল রয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমি অক্ষরেখাও সক্রিয় রয়েছে এবং তার একটি অংশ দিঘার কাছ দিয়ে অতিক্রম করছে। এর প্রভাবে পূর্ব ভারতের আবহাওয়ায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে মূল সতর্কতা বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়া নিয়ে, আর উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বেশি। তাই আবহাওয়ার আপডেট নজরে রেখে প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করাই নিরাপদ।


