৪ হাজার পেরিয়েছে ডেঙ্গি আক্রান্ত, আজ থেকে বাংলায় ৩ দিনের ‘মেগা স্বচ্ছতা অভিযান’
ডেঙ্গি নিয়ে বাড়ছে সতর্কতা, আজ থেকে তিন দিনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাংলায়
পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার করা হল। রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজারের গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের বিশেষ ‘মেগা স্বচ্ছতা অভিযান’ (Mega Cleanliness Drive)। ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই অভিযান। বর্ষার জমা জল, মশার প্রজননস্থল এবং অপরিচ্ছন্ন এলাকাগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে পরিষ্কার করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। প্রশাসনের আশা, মশার বংশবিস্তার রুখতে পারলে ডেঙ্গি সংক্রমণের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যে ৪,০৩৫ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। সরকারি হিসাবে ডেঙ্গিতে সরাসরি সাত জনের মৃত্যুর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ডেঙ্গি-পজিটিভ থাকা অবস্থায় অন্য গুরুতর শারীরিক সমস্যায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের হিসাব আলাদা হওয়ায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা এখনও কম। যদিও বর্ষা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিন দিনের মেগা স্বচ্ছতা অভিযানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির পাশাপাশি বেসরকারি ক্ষেত্রেও নজর দেওয়া হচ্ছে। স্কুল, কলেজ, অফিস, আবাসন, হোটেল, রেস্তরাঁ, হাসপাতাল, বিমানবন্দর, সরকারি দফতর এবং নির্মীয়মাণ ভবনগুলিতে বিশেষভাবে নজরদারি চালানো হবে। কোথাও বৃষ্টির জল জমে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সেই জল সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি হল এডিস মশার (Aedes mosquito) প্রজননস্থল ধ্বংস করা। সাধারণত জমে থাকা জলে এই মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, গ্যারেজ, বাগান কিংবা পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা জলও প্রশাসনের নজরে রয়েছে।
ব্যক্তিগত জমি ও আবাসিক এলাকাকেও অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে। ফাঁকা জমিতে ঝোপঝাড়ের মধ্যে জল জমে থাকলে কিংবা দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা হলে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে পুর আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হতে পারে। সেই জরিমানার অর্থ সম্পত্তি করের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ও প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে।
কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ—এই পাঁচটি এলাকাকে বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা ও পুর প্রশাসনকে মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করা, জমা জল সরানো এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতাতেও পুরসভার কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় জমা জল ও সম্ভাব্য মশার আঁতুড়ঘর খুঁজে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
তবে প্রশাসনের বার্তা, তিন দিনের অভিযানই ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণের চূড়ান্ত সমাধান নয়। বর্ষাকালে নিয়মিত নজরদারি এবং নাগরিকদের সচেতনতা equally গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়া, ফুলের টব বা পরিত্যক্ত পাত্র পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
আগামী কয়েক সপ্তাহ ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ফলে ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের এই বিশেষ অভিযান কতটা কার্যকর হয় এবং এর পরেও জমা জল ও মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কতটা ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর।


