University Transfer Bill: শিক্ষক-কর্মীদের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যত্র বদলি, আজ বিধানসভায় বিল

NEWS INDIA বাংলা
0

 বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মীদের বদলি, বিধানসভায় আজ সংশোধনী বিল: স্বশাসন নিয়ে আপত্তি JUTA-র

এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি হতে পারেন শিক্ষক-কর্মীরা, আজ বিধানসভায় গুরুত্বপূর্ণ বিল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলি সংক্রান্ত সংশোধনী বিল নিয়ে প্রতীকী চিত্র


পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রস্তাব ঘিরে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন বসছে। এক দিনের এই অধিবেশনে পেশ হতে চলেছে ‘West Bengal Universities and Colleges Administration and Regulation Amendment Bill, 2026’। বিলটি কার্যকর হলে রাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক এবং অশিক্ষক (Non-teaching) কর্মীদের বদলির আইনি সুযোগ তৈরি হবে। তবে বিলটি এখনও প্রক্রিয়াধীন; তাই এটিকে ইতিমধ্যেই কার্যকর আইন হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

রাজ্য সরকারের বক্তব্য, নতুন বা অপেক্ষাকৃত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও কর্মীদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানো গেলে শিক্ষার মান, পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এর আগে জানিয়েছিলেন, অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে সেখানকার পরিকাঠামো, ক্লাস এবং Centre of Excellence তৈরির কাজে তাঁদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা যাবে। সরকারি সূত্রের দাবি, বদলির পর সংশ্লিষ্ট কর্মীর চাকরির seniority বজায় থাকবে। পাশাপাশি বদলির জন্য প্রয়োজনীয় খরচও রাজ্য সরকার বহন করবে বলে জানা গিয়েছে।

তবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাকে ঘিরে শিক্ষক মহলে আপত্তি তৈরি হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (JUTA) এই উদ্যোগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন এবং কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তার উপর আঘাত বলে দাবি করেছে। সংগঠনের বক্তব্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়ম, service conditions এবং প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠালে তাঁর চাকরির শর্ত কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

শিক্ষক সংগঠনের আরও আশঙ্কা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে সরকারের ভূমিকা বাড়লে academic autonomy বা শিক্ষাগত স্বায়ত্তশাসন দুর্বল হতে পারে। JUTA-র দাবি, কর্মীদের তাঁদের সম্মতি ছাড়া সম্পূর্ণ ভিন্ন নিয়ম ও পরিস্থিতির মধ্যে পাঠানোর বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সংগঠনটি এই ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয়করণের দিকে একটি পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছে।

অন্যদিকে সরকারের যুক্তি, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে অভিজ্ঞ মানবসম্পদের সুষম ব্যবহার করলে নতুন প্রতিষ্ঠানগুলিও দ্রুত শক্তিশালী হতে পারে। বর্তমানে সরকারি কলেজের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বদলি ব্যবস্থা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে একই ধরনের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বদলি ব্যবস্থা ছিল না বলেই সরকার নতুন আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে।

ফলে বৃহস্পতিবারের বিশেষ অধিবেশনকে ঘিরে মূল প্রশ্ন শুধু শিক্ষক বদলি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বাধীনতা, কর্মীদের service conditions এবং উচ্চশিক্ষায় সরকারের ভূমিকার পরিধি। বিলটি বিধানসভায় কীভাবে আলোচিত ও গৃহীত হয়, এবং পরবর্তী সময়ে তার বিধি কীভাবে তৈরি করা হয়, সেদিকেই এখন নজর শিক্ষা মহলের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!