‘Alpha’ ব্যর্থতার প্রভাব পড়েছিল আমার ছবিতেও! মহিলা-কেন্দ্রিক সিনেমা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি তাপসীর
একটি মহিলা-প্রধান ছবি ব্যর্থ হলেই কেন বদলে যায় বিনিয়োগকারীদের মন? তাপসীর অভিজ্ঞতায় উঠল প্রশ্ন
বলিউডে মহিলা-কেন্দ্রিক ছবির ভবিষ্যৎ এবং অর্থায়ন নিয়ে ফের প্রশ্ন তুললেন অভিনেত্রী তাপসী পন্নু (Taapsee Pannu)। তাঁর দাবি, কোনও বড় মহিলা-প্রধান ছবি (female-led film) বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তার প্রভাব শুধু সেই ছবির অভিনেত্রী বা নির্মাতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং পরবর্তী সময়ে একই ধরনের ছবিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়ে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তাপসী দাবি করেছেন, আলিয়া ভাট অভিনীত ‘Alpha’ প্রত্যাশিত ফল না করার পর তাঁর নিজের কয়েকটি ছবির ক্ষেত্রেও বিনিয়োগকারীদের মনোভাব বদলে গিয়েছিল।
৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে তাপসীর এই বক্তব্য সামনে এসেছে। বর্তমানে নিজের ছবি ‘Gandhari’-র প্রচারে ব্যস্ত অভিনেত্রী। ছবির প্রচারের সময়ই মহিলা-কেন্দ্রিক সিনেমার অর্থায়ন, বক্স অফিসের ঝুঁকি এবং ইন্ডাস্ট্রির মানসিকতা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
তাপসীর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও একটি বড় মহিলা-প্রধান ছবি ব্যর্থ হলে তার প্রভাব পরবর্তী প্রকল্পগুলিতেও পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনার ধরন বদলে যায়। তাঁদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে মহিলা-প্রধান ছবি (women-led cinema) এই মুহূর্তে বাজারে ভালো ফল করছে না। এমনকি বড় তারকা অভিনীত কোনও মহিলা-কেন্দ্রিক ছবি প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা না করলে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত অভিনেত্রীকে কেন্দ্র করে তৈরি ছবির ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি—এমন যুক্তিও সামনে আসে বলে জানিয়েছেন তাপসী।
অভিনেত্রীর দাবি, এটি কোনও একটি বছরের সমস্যা নয়। তাঁর অভিজ্ঞতায়, প্রায় প্রতি বছরই কোনও না কোনও মহিলা-প্রধান ছবির ব্যর্থতার পর একই ধরনের আলোচনা শুরু হয়। এর ফলে কিছু সম্ভাব্য প্রকল্প মাঝপথে আটকে যেতে পারে অথবা প্রযোজক ও বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে যেতে পারেন। অর্থাৎ একটি ছবির বক্স অফিস ফলাফল অনেক সময় পুরো মহিলা-নেতৃত্বাধীন সিনেমার বাজার সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।
এই প্রসঙ্গেই পুরুষ ও মহিলা অভিনেতাদের জন্য বলিউডের প্রত্যাশার পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাপসী। তাঁর বক্তব্য, কোনও বড় পুরুষ-প্রধান ছবি ব্যর্থ হলে সেটিকে সাধারণত পুরো পুরুষ-প্রধান সিনেমার বাজারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয় না। কিন্তু মহিলা-প্রধান একটি ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হলেই একই ধরনের আরও ছবির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তাপসীর মতে, এই দ্বৈত মানদণ্ড (double standard) মহিলা অভিনেত্রীদের জন্য একটি বড় সমস্যা।
তবে পরিস্থিতির অন্য দিকও তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, কোনও মহিলা অভিনেত্রীকে কেন্দ্র করে তৈরি ছবি বড় সাফল্য পেলে বাজারের মনোভাবও দ্রুত বদলে যায়। তখন বিনিয়োগকারীরা একই ধরনের নতুন গল্প, চরিত্র বা genre নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। অর্থাৎ একটি সফল ছবি যেমন নতুন প্রকল্পের দরজা খুলে দিতে পারে, তেমনই একটি ব্যর্থ ছবি একাধিক সম্ভাব্য প্রকল্পের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ‘Alpha’-এর ফলাফলের কারণে তাপসীর নির্দিষ্ট কোন কোন প্রকল্প বন্ধ হয়েছে বা কোন বিনিয়োগকারী সরে গিয়েছেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই। ফলে এই অংশটি আপাতত তাপসী পন্নুর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বক্তব্য হিসেবেই দেখা উচিত, নিশ্চিত শিল্প-পরিসংখ্যান হিসেবে নয়।
মহিলা-কেন্দ্রিক সিনেমার ক্ষেত্রে তাই প্রশ্নটা শুধু একটি ছবির সাফল্য বা ব্যর্থতার নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রযোজকদের ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা, তারকার বাজারমূল্য এবং বক্স অফিসের প্রত্যাশা। তাপসীর বক্তব্য সেই পুরনো বিতর্ককেই নতুন করে সামনে আনল।


