Nepal Disaster Missing Tourists Latest Update : নেপাল বিপর্যয়ে নিখোঁজ বাংলার ৩৭ জন

NEWS INDIA বাংলা
0

নেপাল বিপর্যয়ে এখনও নিখোঁজ বাংলার ৩৭ জন, উৎকণ্ঠায় পরিবার

দিন পেরিয়েও যোগাযোগ নেই, নেপাল বিপর্যয়ের পর বাংলার ৩৭ জনকে নিয়ে বাড়ছে পরিবারের উদ্বেগ

 

নেপাল বিপর্যয়ের পর নিখোঁজ বাংলার ৩৭ জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরও পশ্চিমবঙ্গের ৩৭ জনের কোনও সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ কাটছে না তাঁদের পরিবারের। কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকাজের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অনুসন্ধান আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর বহু এলাকা এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গের নিখোঁজ বাসিন্দার সংখ্যা ৩৯ বলে জানা গিয়েছিল। পরে বসিরহাটের পোদ্দার পরিবারের দুই সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হওয়ায় সেই সংখ্যা কমে ৩৭ হয়েছে। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও জানা যায়। নিখোঁজদের তালিকায় কলকাতার একটি পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে নেপাল হয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া ৩২ জনের একটি দলও রয়েছে।

জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে যাত্রা করা ওই পর্যটকদল ২১ অগস্ট রওনা দিয়েছিল এবং ২২ অগস্ট নেপালে পৌঁছয়। এরপর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে তাঁদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা প্রশাসন, কন্ট্রোল রুম এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের অবস্থান জানার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় নিশ্চিত তথ্য পেতে সমস্যা হচ্ছে।

নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের জেরে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। জলপ্রবাহের পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ধস নামায় রাস্তা ও সেতুর ক্ষতি হয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলিকে ধ্বংসস্তূপ, কাদা এবং দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে তল্লাশি চালাতে হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযানে স্থলপথের পাশাপাশি হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো এবং সুড়ঙ্গ এলাকাতেও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতি উদ্ধারকাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছে।

এদিকে নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে DNA নমুনা সংগ্রহের মতো পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের নিখোঁজদের পরিবারগুলিও এখন প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের অপেক্ষায়।

পরিবারগুলির মূল দাবি, তাঁদের প্রিয়জনেরা কোথায় রয়েছেন, তাঁদের অবস্থা কী—এই বিষয়ে দ্রুত নিশ্চিত তথ্য জানানো হোক। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সময় যত বাড়ছে, উদ্বেগও তত বাড়ছে। একইসঙ্গে প্রশাসনের তরফে অনুসন্ধান ও যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে নেপালের দুর্গম এলাকাগুলিতে তল্লাশি আরও জোরদার করা এবং পশ্চিমবঙ্গের নিখোঁজ ৩৭ জনের প্রত্যেকের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, ততই তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা পরিবারগুলির।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!