মহারাষ্ট্রে SIR-এ ২.০৬ কোটি ভোটারের নাম উধাও! ‘ভোট চুরি’ অভিযোগে তুঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত
মহারাষ্ট্রের খসড়া ভোটার তালিকায় ২.০৬ কোটি নাম নেই, কেন বাড়ছে রাজনৈতিক বিতর্ক?
মহারাষ্ট্রে ভোটার তালিকার Special Intensive Revision বা SIR ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর প্রায় ২.০৬ কোটি ভোটারের নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। ২ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নতুন করে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে এই মুহূর্তে মনে রাখা জরুরি, এটি এখনও খসড়া তালিকার পরিসংখ্যান। নাম না থাকার অর্থ প্রত্যেক ক্ষেত্রেই বেআইনিভাবে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় এখনও আসেনি।
নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, SIR-এর আগে মহারাষ্ট্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৯.৭৯ কোটি। সংশোধিত খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে প্রায় ৭.৭২ কোটি ভোটারের। অর্থাৎ প্রায় ২১ শতাংশ নাম খসড়া তালিকায় নেই। এই বড় পরিবর্তন সামনে আসার পরই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই পরিসংখ্যানকে সামনে রেখে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ‘ভোট চুরি’ (Vote Chori)-র অভিযোগ করেছেন।
শুধু রাজ্যজুড়েই নয়, মুম্বইতেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শহরের প্রায় ১.০৩৯ কোটি নথিভুক্ত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৩৬.১ লাখ নাম সংশোধিত খসড়া তালিকায় নেই। কয়েকটি আবাসনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, SIR-এর enumeration প্রক্রিয়ায় তাঁরা অংশ নেওয়ার পরও অনেক পরিবারের নাম নতুন তালিকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
এখন পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দাবি ও আপত্তি জানানোর পর্ব। খসড়া তালিকায় নাম না থাকা যোগ্য ভোটাররা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, Form 6-এর মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে এবং ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাবি জানানোর সময়সীমা রয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
বিরোধীদের অভিযোগ অবশ্য শুধু সংখ্যার হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়লে নির্বাচনী ফলাফলে তার প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে SIR-এর সমর্থনে যুক্তি হল, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের মাধ্যমে মৃত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত কিংবা অন্য কারণে অযোগ্য হয়ে পড়া নাম শনাক্ত করা প্রয়োজন। ফলে বিতর্কের কেন্দ্রে এখন একটি প্রশ্ন—খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া ২.০৬ কোটি নামের মধ্যে কতজন প্রকৃতপক্ষে যোগ্য ভোটার এবং কতজন নিয়ম অনুযায়ী বাদ পড়ার আওতায় পড়ছেন।
বিষয়টি আদালতের নজরেও এসেছে। রাজ্যসভা সাংসদ কপিল সিব্বল SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় কারসাজির অভিযোগ তুলে bulk deletion বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তবে এই বক্তব্যও অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে।
ফলে মহারাষ্ট্রের SIR নিয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রক্রিয়াটির পরবর্তী ধাপ। দাবি-আপত্তি, নথি যাচাই এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে, খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলির প্রকৃত চরিত্র কী। তার আগে ২.০৬ কোটি নাম না থাকাকে সরাসরি বেআইনি ভোটার-বর্জন হিসেবে চিহ্নিত করা তথ্যগতভাবে সতর্ক অবস্থান হবে না।


