জম্মু-কাশ্মীরে BJP অফিস ঘিরে বিক্ষোভ, পাল্টা কর্মসূচি BJP-রও; নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হল শ্রীনগর
Statehood-এর দাবিতে শ্রীনগরে JKNC-র বিক্ষোভ, একই দিনে BJP-র পাল্টা কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা
জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu & Kashmir) রাজ্যের মর্যাদা (Statehood) পুনর্বহালের দাবিকে কেন্দ্র করে বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়ল। শ্রীনগরে (Srinagar) ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) দফতরের কাছে জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স (JKNC)-এর বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। একই দিনে BJP-ও জম্মু-কাশ্মীর সরকারের বিরুদ্ধে পৃথক কর্মসূচির ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি কার্যত ‘বিক্ষোভ বনাম পাল্টা বিক্ষোভ’-এর চেহারা নেয়।
JKNC-র কর্মী-সমর্থকদের মূল দাবি ছিল জম্মু-কাশ্মীরের Statehood দ্রুত পুনর্বহাল করা। দলের বক্তব্য, রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্র যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময় এসেছে। সেই দাবিতেই BJP-র শ্রীনগরের দফতরের দিকে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ ও JKNC কর্মীদের মধ্যে মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, BJP-ও একই দিনে জম্মু-কাশ্মীর সরকারের বিরুদ্ধে পাল্টা কর্মসূচি গ্রহণ করে। নিয়োগ, কর্মসংস্থান, বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে দলটি শ্রীনগরের Civil Secretariat ঘেরাওয়ের ডাক দেয়। BJP কর্মীদের Lal Chowk-এর Ghanta Ghar এলাকা থেকে মিছিল করে সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার কর্মসূচি ছিল। ফলে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়।
দুই রাজনৈতিক দলের পৃথক কর্মসূচিকে ঘিরে শ্রীনগরের BJP অফিস, Lal Chowk এবং Jawahar Nagar-সহ বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়। BJP দফতরের দিকে যাওয়া কয়েকটি রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। Lal Chowk-এর Ghanta Ghar এলাকাতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই এই পদক্ষেপ বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক অবস্থান। একদিকে JKNC কেন্দ্রের কাছে Statehood পুনর্বহালের দাবি তুলছে, অন্যদিকে BJP রাজ্যের ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জনস্বার্থের ইস্যুতে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। ফলে একই দিনে দুই পক্ষের কর্মসূচি জম্মু-কাশ্মীরের রাজনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা সংক্রান্ত পরিবর্তনের পর তৎকালীন রাজ্যকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়—জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৯ সালের সাংবিধানিক পরিবর্তনের বৈধতা বহাল রাখে। একইসঙ্গে আদালত জম্মু-কাশ্মীরের Statehood যত দ্রুত সম্ভব পুনর্বহালের বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে Statehood ইস্যু এখনও জম্মু-কাশ্মীরের রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।
বুধবারের কর্মসূচিতে তাই শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়, বৃহত্তর সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রশ্নও সামনে এসেছে। একদিকে কেন্দ্রের কাছে Statehood ফেরানোর দাবি, অন্যদিকে নির্বাচিত সরকারের কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে BJP-র অভিযোগ—দুই দিক থেকেই রাজনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
এখন নজর থাকবে, বুধবারের বিক্ষোভ ও পাল্টা কর্মসূচির পর পরিস্থিতি কতটা শান্ত থাকে এবং Statehood ইস্যুতে কেন্দ্র ও জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে আগামী দিনে কোনও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয় কি না।


