JD Vance: ইরান সংঘাত ‘যুদ্ধ নয়’, জানালেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

NEWS INDIA বাংলা
0

 ‘এটা যুদ্ধ নয়’, ইরান সংঘাত নিয়ে বড় দাবি JD Vance-এর, শেষের সময়সীমা জানাল না আমেরিকা

ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলতে নারাজ JD Vance, কবে শেষ হবে জানাতে পারল না হোয়াইট হাউস

ইরান সংঘাত নিয়ে হোয়াইট হাউসে বক্তব্য রাখছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance


ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ (War) হিসেবে অভিহিত করতে নারাজ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance)। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভ্যান্স বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি যুদ্ধ বলতে চান না। তাঁর দাবি, এই মুহূর্তে সক্রিয়ভাবে গুলি বিনিময় (Active Shooting) চলছে না। তবে সংঘাত কবে পুরোপুরি শেষ হবে, সেই বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি তিনি।

ভ্যান্সের মন্তব্য এমন সময় সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত ফের উত্তপ্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা ইরানও মার্কিন স্বার্থ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসনের দাবি। সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz), বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথগুলির একটি।

সাংবাদিকরা ভ্যান্সকে প্রশ্ন করেন, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (Midterm Elections) আগেই এই সংঘাতের অবসান হবে কি না। জবাবে তিনি কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে ইরানের পদক্ষেপের উপর। বিশেষ করে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ফিরবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

ভ্যান্সের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক তেল পরিবহণ স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা কমানো। মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে, তাদের সামরিক তৎপরতার ফলে জলপথে তেল পরিবহণ আগের তুলনায় কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সংঘাতের প্রভাব এখনও রয়েছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন জ্বালানি খরচ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংঘাতকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের উপর রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী সামরিক উত্তেজনা এবং জ্বালানির বাড়তি দাম আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ফলে একদিকে ইরানের উপর সামরিক চাপ বজায় রাখা এবং অন্যদিকে পরিস্থিতিকে পূর্ণাঙ্গ ‘যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা না করা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস।

এর মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার অভিযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে। ইরানি সূত্রের দাবি, ওই হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ঘটনাটি তদন্ত করছে। ভ্যান্স অবশ্য ইরানি রাষ্ট্রীয় সূত্রের casualty report নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার প্রভাব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও পড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে। একই সময়ে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশও উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

ফলে ভ্যান্সের ‘এটা যুদ্ধ নয়’ মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। রাজনৈতিক ভাষায় সংঘাতের সংজ্ঞা নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান যাই হোক, বাস্তবে সামরিক হামলা, পাল্টা হামলা এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। আর সংঘাতের সমাপ্তির কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায়, পরিস্থিতি আগামী দিনে কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!