সোনা-রুপোয় পতন, চড়ল তেলের দাম! মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে চাপে ভারতীয় শেয়ার বাজার
তেলের দাম বাড়তেই কাঁপল বাজার, কমল সোনা—মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতিতে
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় বুধবার ফের অস্থির হয়ে উঠল আন্তর্জাতিক বাজার। তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি চাপে পড়েছে বিশ্ব শেয়ার বাজার এবং মূল্যবান ধাতু। বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মূলত crude oil, inflation এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (Federal Reserve) সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলা এবং ইরানের পাল্টা হামলার পর Strait of Hormuz দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে Brent crude-এর দাম পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে প্রায় ৯৪.৮৭ ডলারে উঠেছিল। পরে কিছুটা ওঠানামা করলেও তেলের দাম বৃদ্ধিই বুধবারের বাজারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। Hormuz প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ যাওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি খরচের চাপ আরও বাড়তে পারে।
তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে inflation-এর আশঙ্কাও বাড়ছে। জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় উঁচু থাকলে আমদানি-নির্ভর দেশগুলির খরচ বাড়তে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের বিপুল পরিমাণ crude oil আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি বিল, পরিবহণ খরচ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির উপর চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অন্যদিকে gold market-এ দেখা গিয়েছে উল্টো ছবি। বুধবার spot gold তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, spot gold ০.১ শতাংশ কমে প্রতি ounce-এ ৪,৩২৩.৫৯ ডলারের কাছাকাছি ছিল। US gold futures-ও ০.৬ শতাংশ কমে প্রায় ৪,৩৭০.৪০ ডলারে নেমেছিল। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কার কারণে সুদের হার বাড়তে পারে—এই প্রত্যাশাই gold-এর উপর চাপ তৈরি করেছে।
ভারতীয় শেয়ার বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। বুধবার সকালে Nifty 50 প্রায় ০.৮৯ শতাংশ কমে ২৩,৮৪১.৪০-এ এবং BSE Sensex ০.৭৯ শতাংশ কমে ৭৬,৩৩৩.২০-এ নেমেছিল। Reuters জানিয়েছে, ১৬টি প্রধান sector-ই ক্ষতির মুখে পড়ে। oil marketing companies, tyre, paint এবং airline stocks-এর মতো তেলের দামের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ক্ষেত্রগুলিতে চাপ বিশেষভাবে দেখা যায়।
মুদ্রাবাজারেও volatility রয়েছে। বুধবার ভারতীয় টাকা ৯৪.৮৯ প্রতি ডলারে সামান্য শক্তিশালী হয়ে শুরু করলেও উচ্চ তেলের দাম এবং ডলারের চাহিদা চাপ তৈরি করছে। RBI-এর intervention-এর ফলে এখনও পর্যন্ত পতন কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে বলে Reuters জানিয়েছে। Brent ১০০ ডলারের নিচে থাকলে টাকা ৯৪.৫০–৯৫.৫০-এর মধ্যে থাকতে পারে বলে বাজার পর্যবেক্ষকদের ধারণা; তবে crude আরও বাড়লে টাকার উপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে মার্কিন সুদের হার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে inflation আবার বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় সেপ্টেম্বরের Federal Reserve বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বাজারে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে ডলার শক্তিশালী হচ্ছে এবং emerging markets-এর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে চাপ পড়ছে।
সব মিলিয়ে বুধবারের বাজারে মূল সমীকরণ হল—Middle East conflict, crude oil, inflation, dollar এবং interest rate। আগামী দিনে সংঘাতের মাত্রা এবং Strait of Hormuz দিয়ে জ্বালানি পরিবহণের পরিস্থিতিই ঠিক করবে বাজারের পরবর্তী দিক। বিনিয়োগকারীদের জন্য এই পরিস্থিতিতে volatility এবং ঝুঁকি—দুই-ই এখন বাড়তি নজরের বিষয়।


