ফারাক্কায় রেললাইনের নিচে ধস, ৫৩ ঘণ্টা পরও স্বাভাবিক হয়নি পরিষেবা! ভোগান্তিতে যাত্রীরা
৫৩ ঘণ্টা ধরে বিপর্যস্ত রেল যোগাযোগ, ফারাক্কায় ধসের পর কবে স্বাভাবিক হবে ট্রেন পরিষেবা?
টানা ভারী বৃষ্টির জেরে মুর্শিদাবাদের নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনের নিচের মাটি বসে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে রেল যোগাযোগ। প্রায় ৫৩ ঘণ্টা ধরে এই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল এবং বেশ কিছু ট্রেনের রুট পরিবর্তন হওয়ায় চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন যাত্রীরা।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিউ ফরাক্কা ও তিলডাঙার মধ্যবর্তী এলাকায় প্রবল বৃষ্টির কারণে রেললাইনের নিচের মাটিতে ধস নামে। অতিরিক্ত বৃষ্টির জল ঢুকে রেললাইনের বাঁধের মাটি নরম হয়ে যাওয়ার ফলেই এই বিপত্তি বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ধসের জেরে লাইনের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় মাটির গভীরে গর্ত তৈরি হওয়ায় ট্রেন চলাচল নিরাপদ রাখা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রেললাইনের বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোর একটি অংশও।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পূর্ব রেল (Eastern Railway) যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ শুরু করেছে। অতিরিক্ত কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারদের ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে পাইলিং, মাটি ভরাট এবং ট্র্যাকের নিচের অংশ শক্ত করার কাজ চলছে। রেল কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা হল, মেরামতির কাজ শেষ হওয়ার পর প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানো হবে। নিরাপত্তা পরীক্ষায় ছাড়পত্র পাওয়ার পরই ধাপে ধাপে স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনা হবে।
এই বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গগামী এবং উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গমুখী দূরপাল্লার ট্রেনগুলিতে। বন্দে ভারত, শতাব্দী এক্সপ্রেস এবং দার্জিলিং মেল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। কয়েকটি ট্রেনকে বিকল্প রুটে ঘুরিয়ে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কলকাতা, হাওড়া, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীদের ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প পরিবহণ হিসেবে সড়কপথের উপরও চাপ বেড়েছে। বহু যাত্রী বাধ্য হয়ে বাস ও অন্যান্য যানবাহনের সাহায্য নিচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকারের তরফেও অতিরিক্ত সরকারি বাস পরিষেবা চালু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু ট্রেন বাতিলের কারণে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক যাত্রী সড়কপথে চলে আসায় বিকল্প পরিবহণ ব্যবস্থাতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই শনিবার কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। রেল সূত্রে জানা যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতির কাজ এখন শেষ পর্যায়ের দিকে। সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে পুরো পরিষেবা আগের অবস্থায় ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
রেল কর্তৃপক্ষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দ্রুত পরিষেবা চালু করার পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামতির পর ট্র্যাকের স্থায়িত্ব এবং নিচের মাটির শক্তি পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়া পরিস্থিতিও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
ফারাক্কার এই রেল বিপর্যয় শুধু মুর্শিদাবাদ বা মালদহের যাত্রীদের নয়, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে দীর্ঘপথের রেল যোগাযোগের উপরও বড় প্রভাব ফেলেছে। ফলে রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের ট্রেনের সময়সূচি ও পরিষেবা সংক্রান্ত সর্বশেষ আপডেট দেখে যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


