Budgam Encounter: পাকিস্তানি জঙ্গি ইয়াসির নিহত, উদ্ধার AK Rifle

NEWS INDIA বাংলা
0

বডগামে যৌথ বাহিনীর বড় সাফল্য, এনকাউন্টারে নিহত পাকিস্তানি জঙ্গি! উদ্ধার AK রাইফেল

পাহাড়ি এলাকায় গুলির লড়াই, বডগামে নিহত পাকিস্তানি জঙ্গি ইয়াসির; এখনও চলছে তল্লাশি 

বডগামে যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে পাকিস্তানি জঙ্গি ইয়াসির নিহত


জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যাঞ্চলে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্যের দাবি নিরাপত্তাবাহিনীর। বডগাম জেলার আশদার গলি এলাকায় সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (CRPF)-র যৌথ অভিযানে এক জঙ্গি নিহত হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহত জঙ্গির পরিচয় পাকিস্তানি নাগরিক ইয়াসির (Yasir) হিসেবে জানিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। পুলিশের দাবি, ইয়াসির নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা (Lashkar-e-Taiba)-র সঙ্গে যুক্ত ছিল।

সেনার চিন্নার কোর (Chinar Corps)-এর তরফে জানানো হয়, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আশদার গলি এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। তল্লাশির সময় নিরাপত্তারক্ষীরা সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন। এরপর সন্দেহভাজনদের চ্যালেঞ্জ করা হলে পাল্টা গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। তার পরেই নিরাপত্তাবাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়।

এনকাউন্টারে এক জঙ্গি নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি AK সিরিজের রাইফেল এবং অন্যান্য যুদ্ধসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে অভিযানের পরেও আশপাশের এলাকায় আরও জঙ্গি লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। সেই কারণেই এনকাউন্টার শেষ হওয়ার পরও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে যৌথ বাহিনী।

অভিযানস্থলের ভৌগোলিক অবস্থানও নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। বডগামের এই এলাকা পীর পাঞ্জাল পর্বতশ্রেণির দুর্গম ভূপ্রকৃতির মধ্যে পড়ে। ঘন জঙ্গল, পাহাড়ি পথ এবং সীমিত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে সেখানে তল্লাশি চালানো তুলনামূলকভাবে কঠিন। PTI-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এনকাউন্টারস্থলে পৌঁছতে নিরাপত্তাকর্মীদের দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়েছিল।

এই অভিযানের পর নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে নিহত জঙ্গির পরিচয়। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ইয়াসির পাকিস্তানের নাগরিক এবং তার সঙ্গে লস্কর-ই-তইবার যোগ ছিল। এই তথ্য সামনে আসার পর তার সম্ভাব্য যোগাযোগ, ভারতে প্রবেশের পথ এবং স্থানীয় কোনও সহযোগী বা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অভিযান শেষ হওয়ার পরও এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় কোনও জঙ্গি বা সহযোগী আশপাশে লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর লক্ষ্য, সম্ভাব্য জঙ্গিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি দুর্গম এলাকা ব্যবহার করে তাদের পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রুখে দেওয়া।

মধ্য কাশ্মীরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বডগামের এই অভিযান তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে পাকিস্তানি নাগরিক এবং লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে কথিত যোগের বিষয়টি সামনে আসায় তদন্তে নিহত জঙ্গির নেটওয়ার্কের দিকে নজর দেওয়া হতে পারে। তবে বর্তমানে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জঙ্গি বা কোনও বৃহত্তর নাশকতার পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত দাবি করার মতো তথ্য নেই।

যৌথ বাহিনীর তল্লাশি অভিযান এবং পরবর্তী তদন্তের ফলেই পরিষ্কার হবে, নিহত ইয়াসির একাই ওই এলাকায় সক্রিয় ছিল, নাকি তার সঙ্গে আরও কোনও জঙ্গি বা সহযোগী যুক্ত ছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!