লেক কারিবায় যাত্রীবোঝাই ফেরি উল্টে বিপর্যয়, মৃত অন্তত ১৫

NEWS INDIA বাংলা
0

 

জিম্বাবোয়েতে ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনা, মৃত অন্তত ১৫, নিখোঁজ ২৭

লেক কারিবায় অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ফেরি উল্টে বিপর্যয়, উদ্ধার ৭৭


Zimbabwe Lake Kariba ferry accident rescue operation


জিম্বাবোয়ের লেক কারিবায় ভয়াবহ ফেরি দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৭ জন। মঙ্গলবার যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি হ্রদের জলে উল্টে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জিম্বাবোয়ের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের প্রথমে হ্রদের একটি ছোট দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উদ্ধারকারী নৌকার মাধ্যমে তাঁদের নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে হ্রদের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি পানির নিচে অনুসন্ধানের জন্য বিশেষ দলও কাজে নেমেছে। ঘটনাস্থলের কাছে স্পিডবোট ও হেলিকপ্টারকে উদ্ধারকাজে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে।

দুর্ঘটনার পর ফেরিটিতে প্রকৃতপক্ষে কতজন যাত্রী ছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জিম্বাবোয়ের Civil Protection Unit-এর হিসাব অনুযায়ী, নিবন্ধিত টিকিটের ভিত্তিতে ফেরিটিতে অন্তত ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পাঁচজন ক্রু সদস্য। তবে টিকিটের নির্ধারিত বয়সসীমার নিচে থাকা শিশুদের সংখ্যা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে দুর্ঘটনার সময় নৌযানে মোট কতজন মানুষ ছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ফেরিটির ধারণক্ষমতা নিয়ে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নৌযানটির নির্ধারিত ধারণক্ষমতা ছিল ৯০ জন। অথচ নথিভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রীর সংখ্যাই সেই সীমার চেয়ে বেশি ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হয়েছিল কি না এবং সেটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত যাত্রীসংখ্যাকেই দুর্ঘটনার সরাসরি কারণ হিসেবে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

স্থানীয় সাংসদ Mutsa Murombedzi সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ফেরিটিকে যাত্রা শুরুর আগে দেখানোর কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, লেকের পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ এলাকার বহু মানুষ যাতায়াতের জন্য এই ফেরির উপর নির্ভরশীল। লেক পেরিয়ে নিকটবর্তী Kariba শহরে যেতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। দুর্ঘটনার আগে ফেরিটির সক্ষমতা এবং হ্রদের উত্তাল ঢেউ মোকাবিলার ক্ষমতা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ ছিল বলেও তাঁর দাবি।

লেক কারিবা জিম্বাবোয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল জলাধার। Zambezi নদীর উপর বাঁধ নির্মাণের ফলে ১৯৫০-এর দশকের শেষ থেকে ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে এই হ্রদের সৃষ্টি হয়। বিশাল আয়তন ও গভীরতার কারণে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান যথেষ্ট কঠিন হয়ে উঠেছে।

প্রাথমিকভাবে জিম্বাবোয়ের পুলিশ জানিয়েছিল, ৯০ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু নিয়ে একটি নৌযান লেক কারিবায় উল্টে যায়। পরে উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতির সঙ্গে মৃত, নিখোঁজ এবং জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসে। Reuters-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে ১৫টি মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে এবং অন্তত ২৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনার পর জিম্বাবোয়ের জলপথে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ফেরির ধারণক্ষমতা, যাত্রী গণনা, নিরাপত্তা বিধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার ব্যবস্থার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা হতে পারে। আপাতত প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধান এবং জীবিতদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!