হরমুজ ঘিরে ফের উত্তেজনা, বাড়ছে তেলের দাম
জাহাজ চলাচল কমায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ, Brent crude ছুঁল ৮৯.৮১ ডলার
নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ চলাচল ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। বুধবার Brent crude-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯.৮১ ডলারে পৌঁছেছে। আগের দিনের তুলনায় দাম বেড়েছে প্রায় ৯০ সেন্ট। একই সময়ে মার্কিন West Texas Intermediate বা WTI crude বেড়ে হয়েছে ৮৪.০৮ ডলার।
হরমুজ ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে জাহাজে হামলার খবর এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তাই বাজারে সরবরাহ-উদ্বেগ বাড়িয়েছে। হরমুজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণপথ। যুদ্ধের আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু মঙ্গলবার সেখানে মাত্র ৮টি জাহাজের চলাচল নথিভুক্ত হয়েছে। ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১২টি।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে হরমুজ ও বাব-এল-মান্দেব এলাকায় জাহাজে হামলার ঘটনা। নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায় জাহাজ মালিক ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির একাংশ বিকল্প সমুদ্রপথ ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। দীর্ঘতর রুট ব্যবহারের ফলে পরিবহণ ও বিমার খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব অপরিশোধিত তেল থেকে শুরু করে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দামেও পড়তে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও এখনও অনিশ্চিত। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্দিষ্ট শর্ত মেনে না নিলে জলপথটি স্বাভাবিকভাবে খোলার সম্ভাবনা নেই। ফলে মার্কিন-ইরান আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে বাজারে উদ্বেগ বজায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা IEA-ও জানিয়েছে, হরমুজ পুনরায় খোলা এবং বাব-এল-মান্দেব দিয়ে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা এখনও অধরা। সংস্থাটি ২০২৬ সালের বিশ্ব তেল সরবরাহের পূর্বাভাসও কমিয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয়, বাণিজ্য ঘাটতি এবং মূল্যস্ফীতির উপর চাপ তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা Hindustan Petroleum Corporation Limited (HPCL) এবং Mangalore Refinery and Petrochemicals Limited (MRPL) মোট ৬ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য স্পট টেন্ডার চেয়েছে। MRPL সরবরাহকারীদের লোহিত সাগর ও হরমুজের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ এড়ানোর নির্দেশও দিয়েছে।
তবে তেলের দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শুধু সরবরাহ-ঝুঁকিই নয়, বাজারের সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও বড় ভূমিকা নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত বাড়ার খবর দাম বৃদ্ধির উপর কিছুটা চাপ কমাতে পারত। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সেই প্রভাবকে অনেকটাই ছাপিয়ে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে Brent crude-এর দাম ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি, পরিবহণ, শিল্প উৎপাদন ও মূল্যস্ফীতির উপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান হলে সরবরাহ-ঝুঁকি কমার সঙ্গে সঙ্গে তেলের বাজারেও স্বস্তি ফিরতে পারে।

