পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্পনীতি: বিনিয়োগ টানতে নীতির খসড়া চূড়ান্তের পথে
পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্পনীতি তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। শিল্পমহলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে বিনিয়োগের অনুমোদন, শিল্পের জমি, পরিকাঠামো এবং সরকারি সহায়তা নিয়ে মতামত নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে নতুন শিল্পনীতি (Industrial Policy) তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। শিল্পপতি, ব্যবসায়িক সংগঠন এবং বিভিন্ন বণিকসভার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘ বৈঠকের পর নীতির খসড়া আরও পরিমার্জন করে চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য, বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
সম্প্রতি শিল্পমহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে নতুন শিল্পনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত নেওয়া হয়। সেখানে বিনিয়োগের অনুমোদন পাওয়ার সময় কমানো, শিল্পের জন্য জমির সহজলভ্যতা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সরকারি সহায়তার মতো বিষয়গুলি উঠে আসে। শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব সমস্যাগুলি বোঝার উপরও গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।
প্রস্তাবিত শিল্পনীতিতে Ease of Doing Business-কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন অনুমোদন দেওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য handholding ব্যবস্থা তৈরির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
শুধু বড় শিল্প নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকেও নতুন শিল্পনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। MSME ও Textiles দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন শিল্পনীতি হবে সমন্বিত ও প্রতিযোগিতামূলক। বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি উদ্যোগে সহায়তা, উদ্ভাবন, টেকসই শিল্পপ্রক্রিয়া এবং কর্মসংস্থান তৈরির উপর জোর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন নীতিতে কর্মসংস্থানকে সরকারি প্রণোদনার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থাৎ কোনও প্রকল্পে কত টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে, তার পাশাপাশি সেই প্রকল্পে কতগুলি কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, সেটিও প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হতে পারে। এর ফলে প্রকৃত চাকরি তৈরির উপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিল্পের জন্য জমি এবং দ্রুত অনুমোদনও সরকারের পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্তত ২৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে এক মাসের মধ্যে জমি বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শিল্পের জন্য পৃথক জমি-ক্রয় নীতি এবং single-window clearance ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে।
তবে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করলেই তার সাফল্য নিশ্চিত হবে না। বিনিয়োগকারীরা বাস্তবে কত দ্রুত অনুমোদন পাচ্ছেন, জমি ও পরিকাঠামো কতটা সহজলভ্য হচ্ছে এবং ঘোষিত সরকারি প্রণোদনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার উপরই নীতির সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে।
শিল্পমহলের মতামত নেওয়ার পর খসড়া নীতি আরও পর্যালোচনা করা হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগোবে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের নতুন শিল্পনীতি নিয়ে আরও নির্দিষ্ট ঘোষণা সামনে আসতে পারে।

