কাবেরী জলবণ্টন নিয়ে ফের উত্তেজনা, ১৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি
তামিলনাড়ুর আবেদনে কর্ণাটকের বিরুদ্ধে জল ছাড়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে, ইতিমধ্যেই ১২ হাজার কিউসেক জল ছাড়ার নির্দেশ ঘিরে বাড়ছে চাপ
তামিলনাড়ুর অভিযোগ, কাবেরী জল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (CWMA) নির্দেশ অনুযায়ী কর্ণাটক পর্যাপ্ত জল ছাড়ছে না। সেই নির্দেশ কার্যকর করার জন্যই আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে তামিলনাড়ু। বুধবার শুনানি পিছিয়ে ১৭ আগস্ট করা হয়েছে।
এর মধ্যেই কাবেরী জল নিয়ন্ত্রণ কমিটি (CWRC) কর্ণাটককে তামিলনাড়ুর জন্য প্রতিদিন ১২ হাজার কিউসেক জল ১৫ দিন ধরে ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশটি ১২ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। জল ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে কর্ণাটকে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মাণ্ড্য-সহ কাবেরী অববাহিকার কৃষকদের একাংশ জলাধারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিজেদের কৃষি ও পানীয় জলের প্রয়োজনের কথা তুলে ধরে আপত্তি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে তামিলনাড়ুর বক্তব্য, কাবেরী জলবণ্টনের জন্য নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী কর্ণাটকের জল ছাড়া উচিত। এই অবস্থান থেকেই রাজ্যটি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে।
১৭ আগস্টের শুনানিতে জল ছাড়ার নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়েছে, দুই রাজ্যের বর্তমান জলপ্রবাহ ও জলাধারের পরিস্থিতি কী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে শুনানির আগে আদালত কী নির্দেশ দেবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
কাবেরী বিরোধের শিকড় বহু পুরনো। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর জলবণ্টন ব্যবস্থা কার্যকর করতে কাবেরী জল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও কাবেরী জল নিয়ন্ত্রণ কমিটির মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। কিন্তু বর্ষার তারতম্য, জলাধারের জলস্তর এবং কৃষির চাহিদার মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই রাজ্যের মধ্যে বিরোধ বারবার সামনে এসেছে।
এবারও পরিস্থিতি শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কর্ণাটক প্রশাসন জল ছাড়ার নির্দেশ কীভাবে মোকাবিলা করবে, তা নিয়ে আলোচনা করছে। ফলে ১৭ আগস্টের শুনানির দিকে দুই রাজ্যের কৃষক ও প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেরও নজর রয়েছে।

