আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার দুই বছর পূর্তির আগে ফের তৎপরতা শুরু হয়েছে। ঘটনার রাতে হাসপাতালে উপস্থিত চিকিৎসক, ইন্টার্ন এবং অন্যান্য কর্মীদের ভূমিকা ও বক্তব্য যাচাই করতে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতর পৃথক অনুসন্ধান শুরু করছে বলে জানা গিয়েছে।
২০২৪ সালের ৮-৯ আগস্টের মধ্যরাতে আরজি কর হাসপাতালের চেস্ট মেডিসিন বিভাগের এক পোস্টগ্র্যাজুয়েট শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরদিন হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার সেমিনার হল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
স্বাস্থ্য দফতরের এই পৃথক অনুসন্ধানে মূলত খতিয়ে দেখা হবে, ঘটনার রাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগে কারা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা কখন কোথায় ছিলেন, কী দেখেছিলেন এবং ঘটনার পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, ইন্টার্ন ও হাসপাতালকর্মীদের বক্তব্যও নথিভুক্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি ঘটনার পর হাসপাতাল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তথ্য যাচাই করা হবে।
তবে তদন্তের জন্য কাউকে ডাকা হয়েছে মানেই তিনি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, এমনটা বলা যাবে না। অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য হল ঘটনার সময়কার তথ্য, ভূমিকা এবং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করা।
এর পাশাপাশি মামলার মূল তদন্ত নিয়েও আইনি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। CBI-এর তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়েও আদালতে বিষয়টি উঠেছে। ফলে স্বাস্থ্য দফতরের পৃথক অনুসন্ধান এবং CBI-এর তদন্ত, দুটি প্রক্রিয়াই এখন নজরে রয়েছে।
ঘটনার দুই বছর পর ফের সেই রাতের উপস্থিত চিকিৎসক ও কর্মীদের বক্তব্য সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এতদিন পর নতুন কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে কি না। একইসঙ্গে তদন্তের পরবর্তী গতিপথ এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেও নজর রয়েছে।

