নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়পা বান, মৃত ১৬৮! নিখোঁজ ১১০০-র বেশি, উদ্বেগে কলকাতার ৩২ পর্যটক
হিমবাহ ধসে মুহূর্তে বদলে গেল পাহাড়ের ছবি, নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ বহু পর্যটক
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যয়ের চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ২৭ আগস্টের সকালের আপডেট অনুযায়ী, হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে অন্তত ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১১০০-র বেশি মানুষ নিখোঁজ বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ও বসতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গম ভূখণ্ড এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিপর্যয়ের কেন্দ্র নেপালের রাসুওয়া (Rasuwa) জেলা এবং চিনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকা। প্রাথমিক তদন্ত ও ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিমালয়ের একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ার পর বিপুল জল, বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নীচের নদী ব্যবস্থায় নেমে আসে। এর জেরে ভোতে কোশি নদীতে আচমকা ভয়াবহ জলস্রোত তৈরি হয়। সেই স্রোত পরে ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে আরও নীচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
এই বিপর্যয়ে বহু বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় থাকা ভারতীয়দের একটি বড় অংশের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভারতীয় নাগরিকদের নিখোঁজের কথা উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে কলকাতার ৩২ জন পর্যটকও রয়েছেন। ওই দলটি কলকাতার একটি ট্রাভেল সংস্থার মাধ্যমে মানস সরোবর যাত্রায় বেরিয়েছিল এবং নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পার হওয়ার আগে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বাংলার জন্য আরও উদ্বেগের খবর, জনপ্রিয় অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী প্রতিভাও নেপালে আটকে পড়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে অভিনেতা রজতাভ দত্তও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে সড়কপথে নেপাল থেকে উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে পৌঁছে সেখান থেকে বিমানে কলকাতায় ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।
দুর্যোগের পর ভারত দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তা পাঠিয়েছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে নেপালের জন্য মানবিক সহায়তা ও বিপর্যয় মোকাবিলা সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। ২৭ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় ৩৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী, ওষুধ এবং খাদ্যপ্যাকেট পাঠানো হয়েছে বলে সরকারি সম্প্রচারে জানানো হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারে নেপাল সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ও চলছে।
উদ্ধার অভিযানে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা। বহু রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকায় স্থলপথে পৌঁছনো কঠিন। তার উপর পাহাড়ি আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন এবং কাদায় ঢেকে যাওয়া এলাকা উদ্ধারকারীদের কাজ আরও জটিল করে তুলেছে।
নিখোঁজের সংখ্যা নিয়েও পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল। বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য একত্র করার কাজ চলছে। ফলে আগামী কয়েক ঘণ্টা বা দিনে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বদলাতে পারে। এই মুহূর্তে উদ্ধারকাজ, নিখোঁজদের শনাক্তকরণ এবং তাঁদের পরিবারের কাছে যাচাই করা তথ্য পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।


