অশোকধামে ভয়াবহ পদপিষ্ট, ৭ মহিলা পুণ্যার্থীর মৃত্যু! শ্রাবণী সোমবারে মুহূর্তে বদলে গেল উৎসবের ছবি
শ্রাবণী সোমবারে অশোকধামে হুড়োহুড়ি, পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু ৭ মহিলা পুণ্যার্থীর
বিহারের লখিসরাই জেলার বিখ্যাত অশোকধাম মন্দিরে শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবারে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় অন্তত সাত জন মহিলা পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১২ জনেরও বেশি। ভোর থেকেই শিবের জলাভিষেকের জন্য মন্দিরে বিপুল ভিড় জমেছিল। পরিস্থিতি সামলাতে প্রশাসনের তৎপরতা শুরু হলেও আচমকা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পরই ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রশাসনিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টার মধ্যে অশোকধাম হল্টে পরপর দুটি ট্রেন এসে পৌঁছয়। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যে মন্দিরমুখী পুণ্যার্থীর সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে যায়। জেলা প্রশাসনের দাবি, অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে মন্দিরে প্রবেশের পথে থাকা ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে। এরপর শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি এবং হুড়োহুড়ি। একে অপরের উপর পড়ে যান বহু মানুষ।
ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে প্রথম দিকে বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যাওয়া এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেই গুজব থেকেই আতঙ্ক আরও ছড়িয়ে পড়ে বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। তবে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনাকেই সামনে রাখা হচ্ছে। ঠিক কীভাবে বিদ্যুতের খুঁটি পড়ল, তার সঙ্গে আতঙ্ক ছড়ানোর সম্পর্ক কতটা এবং পুরো ঘটনাটি কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে পুলিশ ও প্রশাসন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাটনা-সহ উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে প্রশাসনের আধিকারিকরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মৃতদের পরিবারের জন্য চার লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন। বিহার সরকারের তরফে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে।
অশোকধাম মন্দিরে শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলিতে প্রতিবছরই বিপুল সংখ্যায় ভক্তের সমাগম হয়। বিশেষ করে তৃতীয় সোমবারে জলাভিষেককে কেন্দ্র করে ভিড় আরও বাড়ে। সেই কারণে মন্দিরে প্রবেশপথ, ব্যারিকেড, রেলস্টেশন থেকে মন্দির পর্যন্ত যাতায়াত এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সময়ে একাধিক ট্রেন পৌঁছলে কয়েক মিনিটের মধ্যে ভিড়ের চাপ যে কতটা বেড়ে যেতে পারে, এই দুর্ঘটনা তা আবারও সামনে এনে দিয়েছে।
প্রশাসনের তদন্তে এখন নজর থাকবে ব্যারিকেড ভাঙার প্রকৃত কারণ, বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যাওয়ার ঘটনা, গুজব কীভাবে ছড়াল এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দিকে। বড় ধর্মীয় জমায়েতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, থাকলে তার জন্য কারও গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
সর্বশেষ পাওয়া সরকারি ও সংবাদ সংস্থা-ভিত্তিক রিপোর্ট অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা অন্তত সাত এবং আহতের সংখ্যা ১২-র বেশি। উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলায় সংখ্যায় পরিবর্তন হতে পারে। তাই পরবর্তী সরকারি আপডেটেই মৃত ও আহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত হবে।

