KMC ভোটে BJP-NCPI জোট? সুদীপের দাবিতে তুমুল জল্পনা, সরাসরি অস্বীকার BJP-র
কলকাতা পুরভোটে কি নতুন জোটের অঙ্ক? সুদীপের দাবির পর BJP-র পাল্টা বক্তব্যে বাড়ল জল্পনিত
কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জোটের অঙ্ক ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে। NCPI সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কলকাতা পুরভোটে তাঁর দল BJP-র সঙ্গে জোট করে লড়াই করতে পারে। এমনকি NDA-র শরিক হিসেবে BJP-র সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। যদিও BJP-র তরফে সেই দাবি সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে KMC নির্বাচন ঘিরে BJP-NCPI জোট এখনই নিশ্চিত নয়; বরং সুদীপের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়েছে।
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য সামনে আসার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, কলকাতা পুরভোটে BJP কি নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের পথে হাঁটছে? তাঁর দাবি অনুযায়ী, BJP-র শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে রাজ্য BJP-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা সুকান্ত মজুমদার সেই দাবি নাকচ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে BJP একাই লড়াই করবে। বাংলায় এই মুহূর্তে BJP-র কোনও জোটসঙ্গী নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
দুই দলের বক্তব্যে এই পার্থক্যই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য কি তাঁর দলের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান, নাকি সত্যিই কোনও পর্যায়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে BJP ভবিষ্যতে ছোট কোনও দল বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার পথে যাবে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
কলকাতা পুরসভা নির্বাচন BJP-র কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে বিশ্লেষণ করছে সব পক্ষ। কলকাতা পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক প্রভাব রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের কাছে ভোটের অঙ্ক বদলানোর জন্য আসন সমঝোতা, প্রার্থী নির্বাচন এবং ভোটের বিভাজন—এই তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে BJP-র জন্য জোটের প্রশ্নটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। দলটি দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল-বিরোধী ভোটকে নিজেদের দিকে আনার চেষ্টা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্য কোনও দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা হলে তার প্রভাব কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পুরভোটে ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন এবং স্থানীয় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ফলাফলে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
তবে বর্তমানে প্রকাশ্য অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট নয়। একদিকে NCPI-র তরফে BJP-র সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে BJP নেতৃত্ব তা সরাসরি অস্বীকার করছেন। ফলে এই মুহূর্তে “BJP-NCPI জোট হয়ে গিয়েছে” বলা তথ্যগতভাবে ঠিক হবে না।
KMC নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক সূচি, প্রার্থী তালিকা কিংবা আসন সমঝোতা নিয়ে কোনও লিখিত বা প্রকাশ্য সিদ্ধান্ত সামনে এলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। তার আগে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক আলোচনা বা জোটের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা যুক্তিযুক্ত।
কলকাতা পুরভোট যত এগোবে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে কে কোন ওয়ার্ডে প্রার্থী দিচ্ছে, বিরোধী ভোট কীভাবে ভাগ হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত কোনও নির্বাচনী সমঝোতা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে কি না। আপাতত BJP-NCPI জোটের চেয়ে বেশি জোরালো হল সেই জোটকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক জল্পনা।


