ভারত-চিন সীমান্তে ৮ দফা ঐকমত্য, বাড়ছে সামরিক যোগাযোগ! নতুন করে এগোচ্ছে Boundary Talks
বেজিং বৈঠকের পর ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন সমীকরণ, সীমান্তে ২ নতুন হটলাইন ও ২ মিটিং পয়েন্ট
ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা গেল। বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত ২৫তম Special Representatives (SR) বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সামরিক যোগাযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি boundary delimitation নিয়ে মোট আট দফা ঐকমত্যে পৌঁছেছে। ২৫ আগস্টের বৈঠকে ভারতের National Security Adviser (NSA) অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী তথা বিশেষ প্রতিনিধি ওয়াং ই বৈঠকে অংশ নেন।
দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির একটি হল boundary delimitation এবং border management নিয়ে “Early and Substantial Harvest” বা দ্রুত ও বাস্তবসম্মত অগ্রগতির লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া। এর জন্য Working Mechanism for Consultation and Coordination (WMCC)-এর অধীনে Boundary Delimitation-এর Expert Group এবং Border Management-এর Working Group নিজেদের Terms of Reference নির্ধারণ করে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সীমান্তে কোনও পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল হিসাব বড় সংঘাতে পরিণত না হয়, তার জন্য বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সিদ্ধান্তও হয়েছে। WMCC, স্থানীয় কমান্ডার স্তরের বৈঠক এবং অন্যান্য নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে দুই দেশ। একই সঙ্গে Line of Actual Control (LAC)-এর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সামরিক উদ্যোগগুলির মধ্যে রয়েছে আরও দুটি General Level Mechanism/Senior Highest Military Commander (SHMC) meeting point এবং পূর্ব ও মধ্য সেক্টরে দুটি অতিরিক্ত border military hotline channel তৈরির সিদ্ধান্ত। এর লক্ষ্য সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং মাঠপর্যায়ে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা।
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্কের কেন্দ্রে ছিল সীমান্তে সেনা মোতায়েন, patrol এবং disengagement নিয়ে টানাপোড়েন। ২০২৪ সালের অক্টোবরের disengagement বোঝাপড়ার পর ধীরে ধীরে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়লেও সীমান্ত প্রশ্নের চূড়ান্ত সমাধান এখনও হয়নি। তাই SR পর্যায়ের এই বৈঠক এবং নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও একে সীমান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি বলা যাবে না।
আট দফা ঐকমত্যে সীমান্তবর্তী বাণিজ্য, তীর্থযাত্রা এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতার বিষয়ও রয়েছে। তিনটি নির্দিষ্ট সীমান্ত বাণিজ্য পয়েন্ট পুনরায় খোলার বিষয়টি স্বাগত জানিয়েছে দুই পক্ষ। পাশাপাশি কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের আরও ব্যাচের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে।
আন্তঃসীমান্ত নদীর জলসংক্রান্ত তথ্য নিয়েও যোগাযোগ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে Trans-border Rivers নিয়ে Expert-Level Mechanism-এর পরবর্তী বৈঠক করার কথা রয়েছে। জলপ্রবাহ সংক্রান্ত তথ্য ভাগাভাগি এবং সংশ্লিষ্ট সমঝোতা স্মারক (MoU) নবীকরণ নিয়েও আলোচনা চলবে।
সবশেষে, দুই দেশ ২৬তম Special Representatives বৈঠক ভারতে ২০২৭ সালে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আলোচনার প্রক্রিয়া যে চালু থাকছে, তা স্পষ্ট। তবে আট দফা ঐকমত্যের আসল গুরুত্ব নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্তগুলি কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর। সীমান্ত নির্ধারণের মতো জটিল বিষয়ের সমাধান এখনও দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিষয়।


