২০৩৬-এর মধ্যে ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হতে পারে ভারত, বড় সংস্কারের রূপরেখা সামনে
এক দশকেই বদলে যেতে পারে ভারতের অর্থনীতির ছবি, ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে বড় সংস্কারের ইঙ্গিত
নয়াদিল্লি, ১৬ আগস্ট: আগামী এক দশকে ভারতের অর্থনীতি কতটা বড় হতে পারে, তা নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। দেশীয় ব্রোকারেজ সংস্থা Equirus Securities-এর সাম্প্রতিক গবেষণা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যকর করা গেলে ২০৩৬ সালের মধ্যে ভারত প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বর্তমান প্রবৃদ্ধির গতি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা, পরিষেবা এবং মানবসম্পদে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন বলে রিপোর্টে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বর্তমানে ভারতের নামমাত্র GDP প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। ফলে আগামী এক দশকে ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছনো অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী একটি লক্ষ্য। Equirus-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডলারের হিসাবে এই আকারে পৌঁছতে হলে দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের অর্থনীতিকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সম্প্রসারিত হতে হবে। একই সঙ্গে ভারতীয় টাকার মূল্য ও স্থিতিশীলতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
রিপোর্টে ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার জন্য মোট ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কর ব্যবস্থা, মূলধন বাজার, মানবসম্পদ, শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্র, বিনিয়োগ এবং আর্থিক পরিকাঠামোকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতির আকার বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করাই এই সংস্কারগুলির অন্যতম লক্ষ্য।
পরিষেবা খাতকে ভারতের ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে Global Capability Centres বা GCC-এর সম্প্রসারণ ভারতের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা ভারতে গবেষণা, প্রযুক্তি, সফটওয়্যার, আর্থিক পরিষেবা এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের কাজের কেন্দ্র তৈরি করছে। এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করা গেলে বৈদেশিক আয় এবং উচ্চ দক্ষতার কর্মসংস্থান দুই-ই বাড়তে পারে।
পর্যটন শিল্পকেও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারতের বিশাল ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, ঐতিহাসিক স্থাপত্য, ধর্মীয় পর্যটন এবং প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন থেকে আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব। এর জন্য পরিকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান পরিষেবা এবং পর্যটন-সহায়ক পরিষেবার উন্নয়ন জরুরি।
তবে ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে ভারতের সামনে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে আরও গতিশীল করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানির দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তন ভারতের বৃদ্ধির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থনীতির আকার বাড়লেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনো equally গুরুত্বপূর্ণ। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, ভালো কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন ছাড়া শুধু GDP-র অঙ্ক দিয়ে অর্থনৈতিক সাফল্য বিচার করা সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, ২০৩৬ সালের মধ্যে ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার সম্ভাবনা ভারতের সামনে একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য তুলে ধরছে। Equirus-এর বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে, এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব করতে হলে ধারাবাহিক উচ্চ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বড় সংস্কার, বিনিয়োগ এবং নীতিগত স্থিরতা প্রয়োজন। আগামী দশকে ভারতের অর্থনৈতিক নীতি ও সংস্কারের গতি সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।

