সোনার বাজারে নজর: ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় দামের ওঠানামা, সুদের হারই এখন বড় ফ্যাক্টর
বিশ্ববাজারে ফের আলোচনার কেন্দ্রে সোনা। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক ঘিরে অনিশ্চয়তা, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং মার্কিন সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা, সব মিলিয়ে সোনার বাজারে তৈরি হয়েছে তীব্র ওঠানামা।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড প্রথম দিকে প্রতি আউন্স ৪,৪৩৪.৮৪ ডলার পর্যন্ত উঠে দুই মাসেরও বেশি সময়ের সর্বোচ্চ স্তর ছোঁয়। পরে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় দাম প্রায় ০.৪ শতাংশ কমে ৪,৩৭১.৯২ ডলারের কাছাকাছি নামে। মার্কিন গোল্ড ফিউচার অবশ্য প্রায় ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৪,৪৩০.৮০ ডলারে ছিল।
সোনার দামের উপর একই সঙ্গে কাজ করছে দুই ধরনের প্রভাব। একদিকে যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ (safe haven) হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এর ফলে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে সতর্ক হতে পারে বলে বাজারে জল্পনা রয়েছে।
সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে সুদ না-দেওয়া সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমে। ফলে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সোনার চাহিদা বাড়ালেও সুদের হার সংক্রান্ত প্রত্যাশা দামের উপর চাপ তৈরি করতে পারে।
ভারতের বাজারেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার MCX-এ গোল্ড ফিউচার প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১.৫৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে বাজার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আগামী দিনে সোনার দামের গতিপথ নির্ধারণে মার্কিন মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান, ফেডের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, অপরিশোধিত তেলের দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাই সাম্প্রতিক দাম বৃদ্ধি দেখে ভবিষ্যতের গতিপথ নিশ্চিতভাবে অনুমান করা এখনই ঝুঁকিপূর্ণ।


