বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের প্রভাবে ফের ঊর্ধ্বমুখী সোনার দাম। দেশীয় বাজারে বৃহস্পতিবার ১০ গ্রাম সোনার দাম পৌঁছেছে প্রায় সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে। ফলে গয়না ক্রেতাদের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা, এই ঊর্ধ্বগতি কি আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মার্কিন মুদ্রানীতি (US Federal Reserve Policy) নিয়ে প্রত্যাশা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ (Safe Haven) হিসেবে সোনার চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই দাম বাড়ছে।
৭ সপ্তাহের সর্বোচ্চে সোনা
দেশীয় কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX)-এ বৃহস্পতিবার ১০ গ্রাম সোনার ফিউচার প্রায় ১,৪৯,০২৯ টাকা থেকে লেনদেন শুরু করে এবং পরে ১,৪৯,২৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। এটি গত সাত সপ্তাহের অন্যতম সর্বোচ্চ স্তর।
আন্তর্জাতিক বাজারে COMEX-এ প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়ে ৪,৩৬৩.৬০ মার্কিন ডলার স্পর্শ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব ভারতীয় বাজারেও পড়েছে।
কেন বাড়ছে সোনার দাম?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি আন্তর্জাতিক কারণ একসঙ্গে কাজ করছে।
- হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা কিছুটা কমার ইঙ্গিত।
- মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমেছে বলে বাজারের প্রত্যাশা।
- ডলারের তুলনামূলক দুর্বলতা।
- নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বৃদ্ধি।
সামনে কোথায় যেতে পারে দাম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, MCX-এ ১০ গ্রাম সোনার জন্য ১.৪৫ লাখ থেকে ১.৫২ লাখ টাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেডিং রেঞ্জ। ১.৫০ লাখ টাকা গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্ট্যান্স। এই স্তর অতিক্রম করলে দাম ১.৫২ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে COMEX-এ ৪,৩২০ ডলার গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এর উপরে দাম স্থায়ী হলে আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাধারণ ক্রেতাদের কী করা উচিত?
যাঁদের সামনে বিয়ে, উৎসব বা অন্য কোনও প্রয়োজনে সোনা কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের বাজারদর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য 'Buy on Dips' অর্থাৎ দাম সাময়িকভাবে কমলে ধাপে ধাপে কেনার কৌশলের কথা বলা হচ্ছে।

