Cooch Behar News: কোচবিহারে বিজেপি নেতা গ্রেফতার, তোলাবাজি ও অপহরণের অভিযোগ |

NEWS INDIA বাংলা
0

 তোলাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে কোচবিহারে গ্রেফতার বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ তালুকদার

টাকা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর ছেলেকে অপহরণের অভিযোগ, কোচবিহারে গ্রেফতার বিজেপি নেতা

কোচবিহারে তোলাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার বিজেপি নেতা বিশ্বজিৎ তালুকদার


কোচবিহারে তোলাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বিজেপির এক স্থানীয় নেতা। ধৃতের নাম বিশ্বজিৎ তালুকদার। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি তুফানগঞ্জ-৪ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সহ-সভাপতি। অভিযোগ, অসম-বাংলা জাতীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী গাড়ি এবং পাথরবোঝাই ডাম্পার থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করতেন তিনি। সম্প্রতি দাবি মতো টাকা না দেওয়ায় আলিপুরদুয়ারের এক ব্যবসায়ীর ছেলেকে অপহরণের অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ারের ওই ব্যবসায়ী বক্সিরহাট থানায় বিশ্বজিৎ তালুকদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ, তাঁর কাছে টাকা দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় তাঁর ছেলেকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে তুফানগঞ্জে নিজের বাড়ি থেকে বিশ্বজিৎ তালুকদারকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, শুধু ওই ব্যবসায়ীই নন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন পণ্যবাহী গাড়ির চালক ও মালিকদের কাছ থেকেও টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ধৃতের বিরুদ্ধে। মাছ, পোলট্রি, সুপারি-সহ বিভিন্ন পণ্য বহনকারী গাড়ির পাশাপাশি পাথরবোঝাই ডাম্পার থেকেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তাধীন। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগ কতটা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনার পর দলের অন্দরেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিজেপির একাংশের অভিযোগ, দলীয় পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তোলাবাজির মতো কাজ চালানো হচ্ছিল। কোচবিহারের বিজেপি নেতা কমল দাসও বিশ্বজিৎ তালুকদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, কোনও নেতা বা কর্মী অনৈতিক কাজে যুক্ত প্রমাণিত হলে দল তাঁর পাশে দাঁড়াবে না এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই গ্রেফতারি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক রয়েছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বও অতীতে দলের কর্মী-সমর্থকদের তোলাবাজি থেকে দূরে থাকার বার্তা দিয়েছে। ফলে কোচবিহারের ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি ফৌজদারি মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

অসম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে এই জাতীয় সড়কের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই পথে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলকে কেন্দ্র করে অবৈধ টাকা আদায়ের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা ব্যবসায়ী এবং পরিবহণ ব্যবসার ক্ষেত্রেও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে প্রশাসনের পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তিতেও তার প্রভাব পড়ে।

পুলিশ এখন অপহরণের অভিযোগ, টাকা দাবির ঘটনা এবং জাতীয় সড়ক দিয়ে চলাচলকারী গাড়ি থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পৃথকভাবে খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনায় আরও কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, কোনও সংগঠিত চক্র কাজ করছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। আদালতে পুলিশ কী তথ্য পেশ করে এবং তদন্তে পরবর্তী সময়ে কী প্রমাণ সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বজিৎ তালুকদারকে অভিযুক্ত হিসেবেই দেখা হবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!