BCCI-র Centre of Excellence নিয়ে প্রশ্ন
চোটের বাড়বাড়ন্তে কাঠগড়ায় ক্রিকেটের মেডিক্যাল ব্যবস্থাপনা, বিশেষজ্ঞ নিয়োগ নিয়ে সরব মহম্মদ কাইফ
ভারতীয় ক্রিকেটে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের চোট ঘিরে এবার নতুন করে প্রশ্ন উঠল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) ফিটনেস ও মেডিক্যাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে। বেঙ্গালুরুর BCCI Centre of Excellence (CoE)-এ স্পোর্টস সায়েন্স ও মেডিসিন বিভাগের শীর্ষ পদে উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ নিয়োগ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতেই সরব হয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ।
কাইফের প্রশ্ন, বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রিকেট বোর্ড হওয়া সত্ত্বেও কেন আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞরা BCCI-এর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন না? তাঁর বক্তব্য, ক্রিকেটারদের বারবার চোট পাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু চোটের পর পুনর্বাসন নয়, চোট প্রতিরোধের ব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারের চোট পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে। জসপ্রীত বুমরাহ, সাই সুদর্শন এবং ওয়াশিংটন সুন্দরকে ঘিরে ফিটনেস সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে সামনে থাকা আন্তর্জাতিক সূচিতে ক্রিকেটারদের ফিট রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি workload management আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
BCCI-এর Centre of Excellence-এর মূল লক্ষ্য শুধু পুনর্বাসন নয়। উচ্চমানের ক্রিকেটারদের জন্য sports science, performance monitoring, injury prevention, rehabilitation এবং athlete development-এর মতো একাধিক ক্ষেত্রে পরিষেবা দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। BCCI ২০২৫ সালে Head of Sports Science and Medicine পদে নিয়োগের জন্য আবেদনও চেয়েছিল। ওই পদের দায়িত্বের মধ্যে injury prevention, rehabilitation oversight এবং multidisciplinary performance team পরিচালনার বিষয়ও ছিল।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই এখন নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন কাইফ। একইসঙ্গে CoE-র প্রধান VVS লক্ষ্মণও সাম্প্রতিক সময়ে জানিয়েছেন, কেন্দ্রটি শুধুমাত্র rehabilitation centre নয় এবং পেশাদার ক্রিকেটে চোটকে সম্পূর্ণভাবে এড়ানো সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, চোটের ক্ষেত্রে proactive monitoring-এর উপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।
তবে কোনও ক্রিকেটার চোট পেলেই সরাসরি BCCI বা Centre of Excellence-এর মেডিক্যাল ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা যায় না। ম্যাচের চাপ, অনুশীলন, ভ্রমণ, বিভিন্ন ফরম্যাটে খেলা এবং ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত শারীরিক পরিস্থিতি, সবকিছুই চোটের সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই সাম্প্রতিক চোটের কারণ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ছাড়া কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে দায়ী করা ঠিক হবে না।
তবে ভারতের সামনে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সূচি এবং ২০২৭ সালের ODI বিশ্বকাপের প্রস্তুতি থাকায় বিষয়টির গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। বিশেষ করে পেসারদের workload management, recovery এবং injury prevention-এর ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে মহম্মদ কাইফের মন্তব্য ভারতীয় ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। প্রশ্ন শুধু কেন এত ক্রিকেটার চোট পাচ্ছেন তা নয়, বরং ভারতের ক্রিকেট কাঠামোয় চোট প্রতিরোধ, দ্রুত পুনর্বাসন এবং খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেস নিশ্চিত করার ব্যবস্থা কতটা বিশ্বমানের, সেটিও এখন আলোচনার কেন্দ্রে।


