রাজস্ব আদায়ে বড় বৃদ্ধি দাবি রাজ্য সরকারের, সামনে আসছে শ্বেতপত্র?

NEWS INDIA বাংলা
0


West Bengal revenue collection Nabanna finance update government economy


পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় (সিএমও) সূত্রের দাবি, সরকার গঠনের পর প্রথম এক মাসে আগের আর্থিক বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, নতুন কোনও কর আরোপ না করেই প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার এবং রাজস্ব সংগ্রহের ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ফলেই এই বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।


সরকারি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ৯ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত সময়ের রাজস্ব সংগ্রহের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেই এই তথ্য সামনে এসেছে। যদিও এই দাবির পূর্ণাঙ্গ সরকারি নথি এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।


কী বলছে রাজ্য সরকার?

নবান্ন সূত্রের বক্তব্য, রাজস্ব বৃদ্ধির প্রধান কারণ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক অনিয়ম ও তথাকথিত 'লিকেজ' নিয়ন্ত্রণ করা। প্রশাসনের দাবি, আগের ব্যবস্থায় যে সমস্ত ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হচ্ছিল, সেখানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ডিজিটাল মনিটরিং আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।


সরকারি সূত্রের আরও দাবি, নতুন প্রশাসন রাজস্ব সংগ্রহের প্রতিটি স্তরে তথ্য যাচাই ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এর ফলে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমার পরিমাণ বেড়েছে।


তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।


শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রস্তুতি

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্ব সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে একটি শ্বেতপত্র (White Paper) প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। সেই উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিগোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।


সরকারের বক্তব্য, এই প্রতিবেদনে বিভিন্ন দপ্তরে রাজস্ব সংগ্রহের অবস্থা, কোথায় কতটা ঘাটতি ছিল এবং নতুন প্রশাসনের পদক্ষেপের ফলে কী পরিবর্তন হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হতে পারে।


তবে শ্বেতপত্র এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সরকারিভাবে চূড়ান্ত তথ্য সামনে আসেনি।


রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল সংস্কারের প্রেক্ষাপট

পশ্চিমবঙ্গে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নতুন নয়। কয়েক বছর আগে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায় 'ওয়েস্ট বেঙ্গল ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট' প্রকল্প চালু হয়েছিল। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি আর্থিক লেনদেনকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে রাজস্ব সংগ্রহে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, তথ্য সংরক্ষণ এবং আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা কমানো সম্ভব হয়। তবে কোনও নির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার জন্য তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।


কোন কোন খাতে নজর দিচ্ছে প্রশাসন?

সরকারি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, খনিজ সম্পদ, আবগারি এবং অন্যান্য রাজস্বনির্ভর ক্ষেত্রগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, বিভিন্ন দপ্তরের তথ্য একত্রিত করে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা হয়েছে।


এছাড়া রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার, অনলাইন পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত অডিটের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।


একটি উদাহরণ তুলে ধরছে প্রশাসন

সরকারি সূত্রের দাবি, বীরভূম জেলার একটি পাথর খাদান থেকে অতীতে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতো, বর্তমানে তার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। প্রশাসনের মতে, নজরদারি বাড়ানো এবং রাজস্ব সংগ্রহের প্রক্রিয়া কঠোর করার ফলেই এই পরিবর্তন এসেছে।


তবে এই দাবির স্বাধীন সরকারি নিরীক্ষা বা পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।


রাজনৈতিক বিতর্কও জোরদার

রাজস্ব বৃদ্ধির এই দাবি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন যেখানে এটিকে তাদের আর্থিক সংস্কারের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে, সেখানে বিরোধী শিবিরের তরফে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।


এই পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত শ্বেতপত্র প্রকাশিত হলে রাজস্ব সংগ্রহ সংক্রান্ত সরকারি দাবি এবং তার ভিত্তি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।


সাধারণ মানুষের কাছে এর গুরুত্ব কী?

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেলে অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয়ের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে রাজস্ব বৃদ্ধির প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করতে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক তথ্য, সরকারি হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।


বর্তমানে রাজ্য সরকারের দাবি অনুযায়ী রাজস্ব সংগ্রহে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও, এর পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ভবিষ্যতে প্রকাশিত সরকারি নথি ও আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সম্ভব হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!