শ্রাবণ মাসকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় ধর্মীয় আয়োজন তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলা। প্রতি বছর লক্ষাধিক শিবভক্ত বাবা তারকনাথের মন্দিরে জল নিবেদন করতে আসেন। এবার সেই আয়োজনকে আরও বিশেষ করে তুলতে রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে—শ্রাবণের প্রথম সোমবার জলযাত্রীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে গোলাপের পাপড়ি ছড়ানোর পরিকল্পনা।
যদিও এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন আবহাওয়া অনুকূল থাকার ওপর নির্ভর করবে বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন।
শ্রাবণী মেলায় কী ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শ্রাবণের প্রথম সোমবার তারকেশ্বরে জলযাত্রীদের স্বাগত জানাতে আকাশপথে গোলাপের পাপড়ি বর্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ঘোষণা সামনে আসার পর থেকেই ভক্তদের পাশাপাশি ফুল ব্যবসায়ী এবং চাষিদের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
কোথা থেকে আসবে এত গোলাপ?
পুষ্পবৃষ্টির জন্য বিপুল পরিমাণ গোলাপের প্রয়োজন হবে। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া এবং কোলাঘাট এলাকার গোলাপ চাষিদের কাছ থেকেই মূলত ফুল সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই দুই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুল উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
লাভবান হতে পারেন ফুলচাষিরা
বর্ষাকালে সাধারণত গোলাপের বাজার তুলনামূলকভাবে মন্দ থাকে। চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক সময় ফুলের দামও কমে যায়। ফলে উৎপাদকদের লাভের পরিমাণও কমে।
তবে এবারের সরকারি উদ্যোগের জেরে বাজারে গোলাপের চাহিদা বেড়েছে বলে ব্যবসায়ী মহলের একাংশের দাবি। এর প্রভাব ফুলচাষিদের আয়ের ওপরও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গোলাপের বাজারে কী পরিবর্তন?
ফুল ব্যবসায়ীদের মতে, বর্ষার মরশুমে সাধারণত দেশি লাল গোলাপের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকে। কিন্তু এবার সরকারি উদ্যোগের সম্ভাবনা সামনে আসতেই পাইকারি বাজারে চাহিদা কিছুটা বেড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
তবে জেলার বিভিন্ন বাজারে দাম অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
কেন বিশেষ শ্রাবণী মেলা?
শ্রাবণ মাস হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে শিব আরাধনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন শিবমন্দিরে ভক্তদের ভিড় দেখা যায়।
পশ্চিমবঙ্গে হুগলি জেলার তারকেশ্বর মন্দির শ্রাবণ মাসে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও প্রতিবেশী রাজ্য থেকেও বহু ভক্ত এখানে জল নিবেদন করতে আসেন।
প্রশাসনের প্রস্তুতি
শ্রাবণী মেলাকে ঘিরে নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ভক্তদের সুবিধার্থে প্রশাসনের তরফে একাধিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির কর্মসূচি চূড়ান্তভাবে হবে কি না, তা আবহাওয়া এবং প্রশাসনিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
কী জানা জরুরি?
শ্রাবণের প্রথম সোমবার তারকেশ্বরে পুষ্পবৃষ্টির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্মসূচি বাস্তবায়ন আবহাওয়া অনুকূল থাকলেই সম্ভব।
পাঁশকুড়া ও কোলাঘাট এলাকার গোলাপ ব্যবহার করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।
সরকারি উদ্যোগে স্থানীয় ফুলচাষিদের বাড়তি বাজার মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। একই সঙ্গে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে পূর্ব মেদিনীপুরের গোলাপ চাষিদের ওপরও। তবে হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আবহাওয়া এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির ওপর। তাই এ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকাই হবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস।

