কলকাতায় রথযাত্রা শেষ হলেই শুরু হয়ে যায় দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। সেই ধারাবাহিকতায় খুঁটিপুজোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল শহরের অন্যতম জনপ্রিয় পুজো সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার সর্বজনীন দুর্গাপুজো। এবারের আয়োজনকে ঘিরে প্রথম থেকেই কৌতূহল ছিল দর্শকদের মধ্যে। খুঁটিপুজোর দিনই উদ্যোক্তারা জানিয়ে দিলেন, ২০২৬ সালের পুজোর মূল ভাবনা হবে ‘সনাতনী চেতনায় বন্দে মাতরম’।
তবে থিমের বিস্তারিত রূপ এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। উদ্যোক্তাদের দাবি, পূর্ণাঙ্গ মণ্ডপ উদ্বোধনের আগে সেই চমক গোপনই রাখা হবে।
এবারের থিম কী?
এবারের দুর্গাপুজোয় সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার যে থিম বেছে নিয়েছে, তার নাম ‘সনাতনী চেতনায় বন্দে মাতরম’।
খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজেপি বিধায়ক ও পুজো কমিটির অন্যতম মুখ সজল ঘোষ জানান, এবারের ভাবনা শুধুমাত্র ভাষায় ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, দর্শনার্থীরা এমন একটি উপস্থাপনা দেখতে পাবেন, যা আগে কখনও দেখেননি।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, এবারের আয়োজনে প্রচলিত আলোকসজ্জার পরিবর্তে অন্য ধরনের শিল্পভাবনা তুলে ধরা হতে পারে। যদিও প্রকল্পের সম্পূর্ণ বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
মণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির দায়িত্বে কারা?
এবারের মণ্ডপ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী শিবশংকর দাস। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মণ্ডপের আসল বৈশিষ্ট্য উদ্বোধনের আগে প্রকাশ করা হবে না। দর্শকরা সরাসরি মণ্ডপে গিয়েই সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।
অন্যদিকে, প্রতিমা নির্মাণ করছেন শিল্পী মিন্টু পাল। তিনি জানিয়েছেন, এবছরও দেবী দুর্গার প্রতিমা থাকবে সাবেকি মৃন্ময়ী রীতিতেই। অর্থাৎ থিমে নতুনত্ব থাকলেও প্রতিমার ঐতিহ্য বজায় রাখা হবে।
কেন এত জনপ্রিয় সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজো?
কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই সর্বজনীন দুর্গাপুজোর সূচনা হয় ১৯৩৬ সালে। দীর্ঘ কয়েক দশকের ইতিহাসে এই পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, শিল্প, স্থাপত্য এবং থিম-উদ্ভাবনের জন্যও বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে।
প্রতি বছর দেশ-বিদেশের হাজার হাজার দর্শনার্থী এই পুজো দেখতে আসেন। শহরের বড় পুজোগুলির তালিকায় সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের নাম বরাবরই প্রথম সারিতে থাকে।
অতীতের থিম কেন এত আলোচিত?
সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার প্রতিবছরই ভিন্নধর্মী থিম উপস্থাপনের জন্য আলোচনায় থাকে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অযোধ্যার রাম মন্দির, লাস ভেগাস স্ফিয়ার, বদ্রীনাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ নির্মাণ দর্শকদের আকর্ষণ করেছিল। গত বছরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি বিশেষ থিম, যেখানে আলো, শব্দ এবং মণ্ডপসজ্জার সমন্বয়ে একটি অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করা হয়েছিল।
এই ধারাবাহিকতায় এবারের আয়োজন নিয়েও প্রত্যাশা অনেক বেশি।
দর্শকদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?
যদিও থিমের পূর্ণাঙ্গ নকশা এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবু উদ্যোক্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট—২০২৬ সালের পুজোয় নতুন ধরনের উপস্থাপনা দেখার সুযোগ মিলতে পারে।
বিশেষ করে মণ্ডপের নকশা, শিল্পকর্ম এবং সামগ্রিক অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করেই এবারের পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
উদ্বোধনে কে থাকবেন?
অতীতে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজোর উদ্বোধনে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। ফলে এবছর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত থাকবেন, তা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সম্ভাব্য অতিথিদের নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
কী বলছে পুজো কমিটি?
পুজো কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র একটি দর্শনীয় মণ্ডপ তৈরি করা নয়; দর্শকদের এমন একটি অভিজ্ঞতা দেওয়া, যা দীর্ঘদিন মনে থাকবে।
থিম, শিল্পকর্ম এবং ঐতিহ্যের সমন্বয়ে নতুন কিছু উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেই আয়োজকদের দাবি। পূর্ণাঙ্গ মণ্ডপ উদ্বোধনের পরই সেই চমকের আসল রূপ সামনে আসবে।
দর্শকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
দুর্গাপুজো ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের থিম নিয়ে আগ্রহ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে থিমের বিভিন্ন দিক, উদ্বোধনের তারিখ বা বিশেষ আয়োজন সংক্রান্ত নতুন তথ্য জানতে পুজো কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের দিকেই নজর রাখা উচিত।
এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, তাতে বলা যায়—ঐতিহ্য বজায় রেখেই নতুন ভাবনার মেলবন্ধন ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েছে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার। ফলে এবারের দুর্গাপুজোতেও কলকাতার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে এই পুজো।

