তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন বাবুল সুপ্রিয়, ‘দুই নৌকায় পা দিয়ে রাজনীতি চলে না’
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নিয়ে মুখ খুললেন প্রাক্তন সাংসদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। দীর্ঘদিনের নীরবতার পর সামাজিক মাধ্যমে করা একটি বিস্তৃত পোস্টে তিনি দলীয় আনুগত্য, রাজনৈতিক নৈতিকতা, দলত্যাগ এবং দুর্নীতি প্রসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
পোস্টে বাবুল সুপ্রিয় লিখেছেন, কোনও জনপ্রতিনিধির নিজের দলের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করার অধিকার অবশ্যই রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, যদি কোনও নেতা দলের নীতি বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন, তাহলে তাঁর সাংসদ বা বিধায়ক পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো উচিত। কারণ ভোটাররা তাঁকে দলীয় প্রতীক ও নেতৃত্বের ভিত্তিতেই নির্বাচিত করেছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে সাম্প্রতিক সময়ে দলবিরোধী অবস্থান নেওয়া কিছু নেতাকে বার্তা দিতে চেয়েছেন। যদিও পোস্টে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি।
শুধু দলত্যাগ বা দলীয় শৃঙ্খলা নয়, তৃণমূলের অতীত নিয়েও আত্মসমালোচনার সুর শোনা গিয়েছে তাঁর বক্তব্যে। বাবুলের মতে, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতি বা সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই এড়ানো যেত।
পোস্টের একটি অংশে তিনি লেখেন, “দুই নৌকায় পা দিয়ে রাজনীতি করা যায় না।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একইসঙ্গে তিনি এমন একজন ব্যক্তির প্রসঙ্গও তুলেছেন, যিনি তাঁকে সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছেন। যদিও সেই ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করায় জল্পনা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে বিজেপির উদ্দেশেও পরামর্শ দিয়েছেন বাবুল। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বিতর্কিত বা অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের দলে নেওয়া উচিত নয়। অন্যান্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে দলবদল, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্ব নিয়ে যখন তীব্র আলোচনা চলছে, তখন বাবুল সুপ্রিয়র এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল। বিশেষ করে তৃণমূলের বর্তমান অবস্থান, দলীয় শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

