কাকলিকে ঘিরে জল্পনা, লোকসভাতেও কি ভাঙনের মুখে তৃণমূল?
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের জোর জল্পনা। বিধানসভায় ভাঙনের পর এবার কি লোকসভাতেও চাপের মুখে পড়তে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস? রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে এমনই প্রশ্ন। এই জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
দলীয় সূত্রে এবং রাজনৈতিক মহলের আলোচনায় উঠে আসছে, সাম্প্রতিক সময়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক বিষয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে তাঁকে সরানোর পরও তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হয়েছেন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-কে ঘিরে তৈরি হয়েছিল ‘নব তৃণমূল মঞ্চ’। সেই ঘটনার পর থেকেই দলীয় ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এবার সেই ‘মডেল’ লোকসভাতেও দেখা যেতে পারে কি না, তা নিয়েই রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে।
বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দল ২৯টি আসনে জয় পেলেও পরবর্তীতে সাংসদ শেখ হাজি নুরুল ইসলাম-এর মৃত্যুর কারণে সাংসদ সংখ্যা কমে ২৮-এ দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংসদ বিক্ষুব্ধ অবস্থান নেন, তাহলে তা দলের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনও সামনে আসেনি।
এদিকে ৮ জুন দিল্লিতে দলের বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর। সেই বৈঠকের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা দাবি করেছেন, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট আরও গভীর হবে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দল ভাঙন সংক্রান্ত সমস্ত আলোচনা এখনও জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে এবং বাস্তব পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে আগামী কয়েকদিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে।

