প্রতি মাসে বিদ্যুতের বিল মেটাতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে? গরমের মরশুমে এসি, ফ্রিজ, পাম্প কিংবা অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলে অনেক পরিবারের মাসিক খরচের বড় অংশ চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিল মেটাতেই। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় সরকারের সূর্যঘর প্রকল্প।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে নিজের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ মিলবে। শুধু তাই নয়, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের ভর্তুকিও পাওয়া যাবে। ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ বিল কমবে, অন্যদিকে সরকারি আর্থিক সহায়তাও মিলবে।
কী এই সূর্যঘর প্রকল্প?
প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর বিদ্যুৎ যোজনার মূল লক্ষ্য হল সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে সৌরশক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের আওতায় বহু পরিবার নিজেদের বাড়িতে সোলার রুফটপ ব্যবস্থা স্থাপন করেছেন।
সোলার প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি বাড়ির দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করা যায়। ফলে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে মাসিক বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
কত ভর্তুকি পাওয়া যাবে?
প্রকল্পের আওতায় সোলার প্যানেলের ক্ষমতা অনুযায়ী ভর্তুকির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
১ কিলোওয়াট সোলার সিস্টেমে ভর্তুকি প্রায় ৩০,০০০ টাকা
২ কিলোওয়াট সিস্টেমে ভর্তুকি প্রায় ৬০,০০০ টাকা
৩ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি পাওয়া যেতে পারে
এই অর্থ সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়। ফলে আবেদনকারীকে আলাদা করে কোনও দফতরে ঘুরতে হয় না।
কীভাবে কমবে বিদ্যুৎ বিল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি উপযুক্ত ক্ষমতার সোলার রুফটপ ব্যবস্থা স্থাপন করলে পরিবারের বিদ্যুতের প্রয়োজনের বড় অংশ নিজস্বভাবে পূরণ করা সম্ভব।
অনেক ক্ষেত্রে মাসিক বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন, সোলার প্যানেলের ক্ষমতা এবং সূর্যালোকের প্রাপ্যতার উপর নির্ভর করে সাশ্রয়ের পরিমাণও বদলাতে পারে।
তবে "সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ" পাওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করবে ব্যবহারকারীর প্রকৃত বিদ্যুৎ চাহিদা ও সিস্টেমের উৎপাদন ক্ষমতার উপর।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য আবেদনকারীর নামে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থাকতে হবে। পাশাপাশি সোলার প্যানেল বসানোর জন্য উপযুক্ত ছাদ বা খোলা জায়গার প্রয়োজন হবে।
আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আধার সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রও প্রস্তুত রাখতে হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
প্রকল্পের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন। আগ্রহী ব্যক্তিরা সরকারি পোর্টালে গিয়ে নিজেদের মোবাইল নম্বর, বিদ্যুৎ সংযোগের তথ্য, ঠিকানা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের পর অনুমোদিত ভেন্ডার নির্বাচন করে সোলার প্যানেল স্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদিত সংস্থাগুলিও আবেদনকারীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে।
এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি শিবির বা জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পের মাধ্যমেও প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য ও আবেদন সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
কেন বাড়ছে মানুষের আগ্রহ?
বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান খরচের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। সৌরশক্তি ব্যবহার করলে শুধু ব্যক্তিগত সাশ্রয়ই হয় না, কার্বন নির্গমনও কমে।
ফলে বিদ্যুৎ বিল কমানো, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষার মতো একাধিক সুবিধা একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করছে এই প্রকল্প।
সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের বাড়িতে পর্যাপ্ত ছাদের জায়গা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই প্রকল্প ভবিষ্যতের একটি লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

