গরমে রক্তসংকট, বারাসাতে মানবিক উদ্যোগে মিলল আশার আলো
![]() |
গ্রীষ্মকাল এলেই রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার এক পরিচিত সমস্যা আবার সামনে আসে—রক্তের ঘাটতি। তীব্র গরম, পরীক্ষার সময়সূচি, এবং নানা সামাজিক ব্যস্ততার কারণে স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে তৈরি হয় বিপজ্জনক ফারাক। এই বছর সেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে নির্বাচনী আবহে।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হাসপাতালগুলিতে রক্তের চাহিদা স্বাভাবিক থাকলেও সরবরাহে ঘাটতি স্পষ্ট। এরই প্রভাব দেখা যাচ্ছে বারাসাত মেডিকেল কলেজ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। এই হাসপাতাল শুধু বারাসাত নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের রোগীদের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা। সেখানে নিয়মিত রক্ত সরবরাহ বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই এক মানবিক উদ্যোগ নজর কেড়েছে। হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডাঃ সুহৃতা পাল এবং MSVP ডাঃ অভিজিৎ সাহা-র আহ্বানে কর্মচারী ও মেডিকেল ছাত্রছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন একটি স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরে। মোট ৪৫ জন রক্তদাতার অংশগ্রহণ এই সংকটকালে এক বড় বার্তা দেয়—সচেতনতা ও সদিচ্ছা থাকলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।
রক্তদান এমন এক মানবিক কাজ, যার কোনও বিকল্প নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি সত্ত্বেও এখনও কৃত্রিমভাবে রক্ত তৈরি করা যায় না। ফলে দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার বা গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে রোগীদের জীবন বাঁচাতে একমাত্র ভরসা মানুষের স্বেচ্ছায় দেওয়া রক্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ। সারা বছর জুড়ে নিয়মিত রক্তদান শিবির আয়োজন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিসে সচেতনতা কর্মসূচি এবং নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক সংগ্রহ ব্যবস্থার উপর জোর দিতে হবে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল ও উৎসবের আগে আগাম প্রস্তুতি নিলে হঠাৎ করে সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
বারাসাত মেডিকেল কলেজের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এটি যেন এককালীন উদ্যোগে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে যদি এই বার্তা পৌঁছায়, তাহলে রক্তের ঘাটতির মতো সমস্যার মোকাবিলা অনেকটাই সহজ হবে। কারণ, একটি ইউনিট রক্ত মানেই একটি জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা। আর সেই দায়িত্ব আমাদের সকলের।

