ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন, মানুষের আশীর্বাদে তৃণমূল শক্তিশালী হবে: অভিষেক
নিজস্ব প্রতিনিধি, নিউজ ইন্ডিয়া ডেস্ক: সাংবাদিক বৈঠক শুরুতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেসব মামলা ‘অ্যাডজুডিকেশন’-এর অধীনে রয়েছে, সেগুলির জন্য পরবর্তীতে একটি সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় প্রায় সাত লক্ষ আট হাজার নাম ছিল। তার আগে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় সাত কোটি ৬৬ লক্ষ। সব মিলিয়ে প্রায় ৬৮ লক্ষ ভোটার বাদ পড়েছিলেন।
১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় আড়াই মাস ধরে শুনানি ও অভিযোগ প্রক্রিয়া চলেছে। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও বহুবার উঠেছে। তিনি বলেন, “আমরাও সেখানে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করেছি।”
তবে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তালিকায় বহু মানুষের নাম ঝুলে থাকার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এতে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, যা মানুষের সামনে তুলে ধরা জরুরি। তাঁর কথায়, সংবাদমাধ্যম মানুষের চোখ ও কান—তাই তাদের মাধ্যমেই এই অসামঞ্জস্যের বিষয়গুলি সামনে আনা প্রয়োজন।
অক্টোবরে এসআইআর নোটিস জারির সময় ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বিষয়ে কোনও উল্লেখ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি আগেই একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল এবং সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই বাংলায় নাম বাদ দেওয়ার সংখ্যা বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ নামে একটি নতুন বিষয় রাতারাতি তৈরি করা হয় এবং প্রায় এক কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে এই ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তালিকা প্রকাশ করা হলেও, তাতে ৩২ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ কেস রাতারাতি বেড়ে ৬০ লক্ষ হয়ে যায়।
২১ তারিখ রাতে ইআরও পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, সেই সময় পর্যন্ত প্রায় ১৪ লক্ষ কেস অমীমাংসিত ছিল, যা পরে বেড়ে ৬০ লক্ষ দেখানো হয়। অতিরিক্ত ৪৬ লক্ষ কেসকে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। এই বিষয়ে প্রয়োজন হলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অধিকার তাঁদের রয়েছে।
বিজেপির ‘পরিবর্তন’ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন—“কি পরিবর্তন করেছে বিজেপি?” রথযাত্রা প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, “আমরা জানি সাধারণত আষাঢ়-শ্রাবণে রথযাত্রা হয়, ফাল্গুনে নয়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রথম দিন থেকেই আমরা এসআইআর-এর বিরোধিতা করেছি। আমাদের মতে, বাংলায় যারা বছরের পর বছর বাস করছেন, তারাই বাংলার নাগরিক।”
বিজেপি নেতা নীতিন নবীন ও শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বড় বড় ভাষণ দিয়ে লাভ নেই।
তাঁর চ্যালেঞ্জ—
“এসআইআর করুন, ইডি আনুন, নির্বাচন কমিশন আনুন, এফআইআর করুন, কেন্দ্রীয় বাহিনী আনুন—২০২৬-এ তৃণমূল কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে। মানুষের আশীর্বাদে আসন সংখ্যা বাড়বে। যদি না বাড়ে, আমি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইব। আর যদি বাড়ে, তাহলে মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে বাংলার আটকে রাখা দু’লক্ষ কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে।”
শেষে তিনি সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ করেন, যদি কারও কাছে নাম বাতিলের তালিকা থাকে, তা যেন তাঁকে দেওয়া হয়—তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি দেখবেন। এরপর সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সাংবাদিক বৈঠক শেষ করেন।

