নিজস্বপ্রতিবেদন, নিউজ ইন্ডিয়া:সিফিলিস কোনও নতুন রোগ নয়। বরং এটি অন্যতম প্রাচীন যৌনবাহিত রোগগুলির মধ্যে একটি। কিন্তু আশঙ্কার বিষয় হল—এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় এতটাই হালকা হয় যে, বহু মানুষ তা বুঝতেই পারেন না। আর সেই অজ্ঞতাই ধীরে ধীরে বড় বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সিফিলিস হয় Treponema pallidum নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে। মূলত অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ালেও, সংক্রমিত মায়ের দেহ থেকে গর্ভস্থ সন্তানের মধ্যেও এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে শিশুমৃত্যু বা জন্মগত নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সিফিলিসের লক্ষণ ধাপে ধাপে প্রকাশ পায়—
• প্রাথমিক পর্যায়ে যৌনাঙ্গে ব্যথাহীন ছোট ঘা দেখা দিতে পারে ।
• অনেক ক্ষেত্রে ব্রণ বা ফুসকুড়ির মতো দাগ হয়, যা সহজে নজর এড়ায়।
• জ্বর, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শরীর ব্যথা বা গলা ব্যথা দেখা দিতে পারে ।
• হাতের তালু ও পায়ের তলায় ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়া একটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ।
• মুখ, যোনি বা মলদ্বারের ভিতরেও ঘা তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসা না করালে এই সংক্রমণ ধীরে ধীরে হৃদযন্ত্র, চোখ, স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
সিফিলিস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল সচেতনতা ও সুরক্ষা—
• যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কন্ডোম বা ডেন্টাল ড্যাম ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি
• একাধিক সঙ্গীর ক্ষেত্রে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন
• শুধু যৌন সম্পর্ক নয়, সংক্রমিত ঘায়ের সংস্পর্শ বা চুম্বনের মাধ্যমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে
• সন্দেহজনক কোনও লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
• সঠিক সময়ে শনাক্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে সিফিলিস সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য।
গুরুত্বপূর্ণ নোট :- এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য ও সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। কোনও উপসর্গ বা সন্দেহ থাকলে অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

